ফাল্গুনী পাত্র

প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি শহরে। একদিকে যেমন বিজেপির নেতা ও কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বিজেপির বহিরাগত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরপ্রধানের উপর হামলা করার।

আরও পড়ুন- রাতের অন্ধকারে দোকান ভেঙে ডাকাতি

নৈহাটি থানার সামনে বিক্ষোভ

নৈহাটি পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেসের পুর প্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন,”রবিবার গভীর রাতে আমার উপর হামলা হয়, দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পাই। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর বহিরাগত গুন্ডারা এসে আমার এবং আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। আমি বিষয়টি নৈহাটি থানার পুলিশকে জানিয়েছি। আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে ওরা ।”

অন্যদিকে রবিবার গভীর রাতে নৈহাটির পাওয়ার হাউস মোড়ে বিজেপি নেত্রী ফাল্গুনী পাত্র ও অন্যান্য বিজেপি কর্মীদের উপর তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করেছে বলে বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ। শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়ে বিজেপির ব্যারাকপুর জেলা সাংগঠনিক সভাপতি ফাল্গুনী পাত্রকে মারধর করেছে ও তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার গভীর রাতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিজেপি নেত্রী ফাল্গুনী পাত্রের অভিযোগ, “তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীর হাতে প্রথমে আক্রান্ত হন নৈহাটি মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সুব্রত দাস। এলাকায় বিজেপি করা যাবে না, বিজেপি করার অপরাধে তাকে মারধর করা হয়। সুব্রত দাস আক্রান্ত হওয়ায় তাকে রবিবার গভীর রাতেই দেখতে যাই আমি। সেই সময় গাড়ি নিয়ে নৈহাটি পাওয়ার হাউজ মোড়ে পৌঁছালে সঙ্গে সঙ্গে আমার গাড়ির উপর চড়াও হয় শাসক দলের গুন্ডা বাহিনী। নৈহাটি পুরসভার পুর প্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায় ও তার দলবল আমার উপর হামলা করে এবং ভাঙচুর করা হয় আমার গাড়ি। এমনকি আমাকে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে ওই দুষ্কৃতীরা মারধর করে।”

ফাল্গুনী পাত্র

এই ঘটনায় ফাল্গুনী পাত্রের অভিযোগ, শাসক দলের ওই দুষ্কৃতীরা তাকে ও অন্য বিজেপি কর্মীদের খুনের চক্রান্ত করে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় নৈহাটি থানায় এবং নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। অবিলম্বে শাসক দলের ওই হামলাকারীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বরা। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে।

এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় নৈহাটি থানার পুলিশ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে, তবে ওই দুষ্কৃতীদের রাজনৈতিক পরিচয় পুলিশ জানায়নি। পুলিশের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

সংঘর্ষের বিষয়ে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “জগদ্দল, দত্তপুকুর, নৈহাটি এবং নোয়াপাড়া থানার পুলিশ আধিকারিকরা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দল দাসে পরিণত হয়েছে। এই পুলিশ আধিকারিকদের দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন যে এই পুলিশ কর্মীদের অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের। আমি এই পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছি। সব থেকে বড় কথা, আমাদের কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে পুলিশের সামনেই, অথচ পুলিশ উল্টে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে। সব থেকে লজ্জার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা তা স্বত্বেও মহিলা বিজেপি নেত্রীকে মারধর করা হয়েছে।