সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ওরা টাকা পাচ্ছে। সরকার তাঁদের জন্য টাকা ছড়াচ্ছে। না হলে কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকদের ভোট পাওয়া যাবে কিভাবে? কিন্তু গোড়া থেকে যে সমস্যা হয়ে বসে রয়েছে তার সমাধান করার কেউ উদ্যোগই নিচ্ছে না। কেন্দ্র থেকে রাজ্য, সর্বত্র চলছে টাকা গুঁজে দিয়ে ভোট কিনে নেওয়ার চেষ্টা। এমনটাই অভিযোগ কৃষক সংগঠনের পক্ষে।

মমতা যেমন ,তেমনই মোদী। ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প’, পরিকল্পনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পকে ভাগ করা হয়েছে দুটি পর্যায়ে৷

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে কৃষক বা ক্ষেতমজুরদের অকাল প্রয়াণে তার পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেবে রাজ্য সরকার৷ ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সব কৃষকরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন৷ এই বয়সকালের মধ্যে কোনও কৃষকের স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনাজনীত কারণে মৃত্যু হলে তার পরিবার ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে।

এটা না হলেও চলতো। কারণ কৃষক সমাজের অন্যতম প্রতিনিধি নারায়ণ নায়েক বলেন, “এখনও বাংলার কৃষককে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। টাকা দিয়ে পরিবারের কি সুবিধা হবে? যে চাষ করছিল, সেই চাষিই যদি না থাকে তাহলে এই দুর্মূল্যের বাজারে এই টাকা দিয়ে সাময়িক মুখ বন্ধ করা ছাড়া কিচ্ছু হচ্ছে না।”

এই প্রকল্পেরই দ্বিতীয় পর্যায়ে চাষের মরসুমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা করা হবে রাজ্যের তরফে৷ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, এবার থেকে একর পিছু ৫ হাজার টাকা করে সাহায্য করা হবে কৃষকদের৷ রবি ও খারিফ শষ্য চাষের সময় মোট অর্থ সাহায্যতে দুটি ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে৷ নারায়ণ নায়েক বলেন, “চাষ করার জন্য যে সব জিনিস প্রয়োজন সেগুলোর দাম বেড়ে যাচ্ছে। একবার এমন বেশি ফলন হচ্ছে যে চাষিকে জলের দরে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে। এবার মাঠ থেকে ফড়ে মারফৎ যখন বাজারে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে সবজি বা চাল তখন তা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে সেই কৃষককেই। তাহলে ওই ৫০০০ টাকার কি মূল্য রইল। এর থেকে সারের দাম কমানোর চেষ্টা করলে চাষিদের ভালো হতো।”

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেট প্রকাশের সময় প্রায় একই স্কিম চালু করে কেন্দ্র। ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পে কৃষকদের বছরে ৬০০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। বাজেটে ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানান, যাঁদের দুই হেক্টরের কম জমি রয়েছে তাঁদের জন্য এই বিশেষ প্রকল্প। এই প্রকল্পে তিন ধাপে কৃষকদের টাকা দেওয়া হবে। এই টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে।

ফেব্রুয়ারি মাসের ওই বাজেটে কৃষকদের জন্য একাধিক ঘোষণা করেন পীযূষ গোয়েল। পশুপালন ও মৎস্যচাষিদের জন্য কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে ২ শতাংশ ছাড় দেওয়া থেকে শুরু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুদে ২ শতাংশ ছাড় দেওয়া এরকম বেশ কিছু পরিকল্পনা। নারায়ণ নায়ক বলেন , “ডিজেলের দাম বেড়েই চলেছে প্রত্যেকদিন। সেটা কমালেও তো কৃষকদের কিছুটা লাভ হয়। বীজ , সার এগুলোর দিকেও একটু নজর দেওয়া হোক। সেই প্রচেষ্টাই নেই সরকারের। খালি টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার প্রচেষ্টা চলছে মাত্র।” একইসঙ্গে তিনি বলেন , “ফড়েদের ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে। চাষিদের দিকে নজর দেওয়া হোক। এভাবে আর কতদিন?”