স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এনপিআর-এ জানাতে হবে মাতৃভাষা। জানাতে হবে বাবা-মায়ের জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান। কেন্দ্রের এই নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানাল তৃণমূল তৃণমূল। যদিও এরাজ্যে এনপিআর হবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, এতে দেশের কত শতাংশ মানুষ কোন ভাষায় কথা বলেন, তা জানা সম্ভব হবে। ফলে কোনও রাজ্যে কোনও বিশেষ ভাষার মানুষের স্থানান্তর (মাইগ্রেশন) কত হয়েছে, তা জানা যাবে। যে তথ্যের ভিত্তিতে সেই রাজ্যে অন্য কোনও ভাষার স্কুল বা সেই ভাষাকে সরকারি ভাবে দ্বিতীয় বা তৃতীয় ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না তা বোঝা যাবে। কিন্তু সেই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল৷ দলের এক নেতার অভিযোগ, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে ভাষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যই হল দেশে কোন রাজ্যে কত বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে তা চিহ্নিত করা। আর তাঁরা যদি মুসলমান হন, তখন তাঁদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে তাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেবে মোদী সরকার।’’

এনপিআর-এ আর একটি বিতর্কিত বিষয় হল বাবা-মায়ের জন্ম-তারিখ ও জন্মস্থান জানানো। বিরোধীদের মতে, এরই মাধ্যমে এনআরসি করার রাস্তা খুলে রাখতে চাইছে সরকার। এনপিআরে তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ঐচ্ছিক, আবার ভুল তথ্য দিলে হাজার টাকা জরিমানা করার নিয়ম রয়েছে আইনে।

আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশ জুড়ে শুরু হতে চলেছে জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ। জনগণনার প্রথম ধাপে মূলত প্রত্যেক নাগরিকের বাড়ি চিহ্নিতকরণ হবে। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ করা হবে জাতীয় জনগণনা পঞ্জি (এনপিআর)-র। ইতিমধ্যেই এনপিআর নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সব রাজ্য সরকার। শুধু এই তালিকায় নেই বাংলা ও কেরল। এনপিআর নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই অবস্থান কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নেরও। রাজ্যের নাগরিকদের স্বার্থেই তাঁদের এই অবস্থান বলে জানিয়েছেন এই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এনপিআর নিয়ে কাজ শুরু করতে আবেদন জানিয়েছেন।