স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যে নাটকীয় হয়ে উঠল রাজ্যসভার নির্বাচন৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত, রাজ্যসভার পঞ্চম আসনে নির্দল প্রার্থী দিতে পারে তৃণমূল৷ এর ফলে ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে বাম-কং জোটের একমাত্র প্রতিনিধি পাঠানোর পথে প্রবল সমস্যা তৈরি হল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

আগামী ২৮ মার্চ রাজ্যসভার পাঁচটি আসনে ভোট। বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে তৃণমূলের চার প্রার্থীরই জয় নিশ্চিত৷ রাজ্য বিধানসভায় সদস্য সংখ্যার বিচারে চারটি আসনের জন্য ন্যূনতম প্রথম পছন্দের ৪৯ করে ভোটের প্রয়োজন। তৃণমূলের নিজস্ব সদস্য ২০৭। ফলে চারটি আসনে অনায়াসেই জিতবে রাজ্যের শাসকদল। বুধবার তৃণমূলের সুব্রত বক্সি ও দিনেশ ত্রিবেদি মনোনয়ন দিলেও বাকি রয়েছেন মৌসম বেনজির এবং অর্পিতা ঘোষ। কংগ্রেস ও বামেদের জোট প্রার্থী হতে চলেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষেও তাদের প্রার্থীকে জেতানো মোটেই কঠিন নয়। কারণ, দলছুটদের বাদ দিলেও জোটের বিধায়ক সংখ্যা ৫১।

কিন্তু তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যে ভোটাভুটির ইঙ্গিতই মিলছে। কী বলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘আমাদের দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, আগামীকাল তিনজনও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। কোনও নির্দল প্রার্থীকেও সমর্থন করতে পারি আমরা। এখনই কিছু বলা যাবে না’। বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীকে সমর্থনের প্রশ্ন উঠলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ার বলেন, ‘ওদের বিজেপির বিরুদ্ধে কথা নেই, আক্রমণের কেন্দ্রে শুধু তৃণমূল।’তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য বিরোধী শিবিরের স্নায়ুর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

অতীতে রাজ্যসভা ভোটে বাম ও কংগ্রেস শিবিরে ভাঙন ধরানোয় সফল হয়েছে তৃণমূল। ফের কি সেই আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা যাবে রাজ্যের শাসকদলকে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। লোকসভা ভোটে যাদবপুর কেন্দ্রে গোহারা হারলেও আদালতে একাধিক মামলায় শাসককে বিড়ম্বনায় ফেলতে সফল হয়েছেন বিকাশ। তাই তাঁকে বিনা যুদ্ধে তৃণমূল জমি ছাড়বে না বলেই রাজনৈতিক মহলের মত৷

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV