স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: দলের শহর সভাপতিকে সরানোর প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা কার্যালয়ের ‘তৃণমূল ভবনে’র সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন ওয়ার্ড সভাপতিরা৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়ার শহরের তৃণমূলের ২৪ জন ওয়ার্ড সভাপতি সহ বেশ কিছু সাধারণ কর্মী সমর্থক বিক্ষোভ দেখান।

তাদের দাবী কোন বিশেষ একজনের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতেই দলের দীর্ঘদিনের শহর সভাপতি সিন্টু রজককে সরিয়ে বাপি মালাকারকে ওই পদে বসানো হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার ওই নিয়োগ পত্রে সই করেছেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি অরুপ খাঁ৷ আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিন্টু রজককে তার পদে ফিরিয়ে না আনলে বাঁকুড়া শহরের ২৪ জন ওয়ার্ড সভাপতি আগামী লোকসভা ভোটে দলের হয়ে কোন ধরণের প্রচার কর্মসূচীতে অংশ নেবেন না৷ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাদের

আন্দোলনরত তৃণমূল কর্মীদের দাবী, এলাকায় যথেষ্ট নম্র, ভদ্র, পরোপকারী ও দক্ষ সংগঠক সিন্টু রজক দীর্ঘ দিন দলের বাঁকুড়া শহর সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাকে বাদ দিয়ে বিধায়ক শম্পা দরিপা ঘনিষ্ট বাপি মালাকারকে ওই পদে বসানো হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিন্টু রজককে তার পূরনো পদে ফিরিয়ে না আনলে ‘বাঁকুড়া শহরের 24 টি ওয়ার্ডে ভোট করা মুশকিল হবে’ বলেও তারা স্পষ্টতই হুমকি দিয়েছেন।

আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১২ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি জীতেন দাস বলেন ‘বারোটা নাগাদ জানতে পারলাম সিন্টু রজককে সরিয়ে বিধায়ক ঘনিষ্ট বাপি মালাকারকে বাঁকুড়া শহর তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। যেখানে দিদি বলছেন পুরনো কর্মীদের যোগ্য সম্মান দিতে হবে, সেখানে সিন্টু রজকের মতো পুরনো কর্মীর বিরুদ্ধে এই ধরণের চক্রান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা সব ওয়ার্ড সভাপতিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতক্ষণ না এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হচ্ছে আমরা দলের হয়ে কেউ ভোট করতে নামছি না।

 

এবিষয়ে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জয় চ্যাটার্জ্জী বলেন, ‘‘বিষয়টি শুনেছি। জেলা সভাপতি অরুপ খাঁ ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো হবে। আলোচনা করেই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হবে।’’

বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি অরুপ খাঁয়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও বিধায়ক শম্পা দরিপা বলেন, ‘‘আমি দলের কোন পদে কাউকে নিয়োগ বা অপসারণ করিনি। সদ্য প্রাক্তন দলের শহর সভাপতি সিন্টু রজকের নাম না করে তিনি বলেন, ‘‘উনি ঐ পদে দীর্ঘ পনের বছর ছিলেন। দীর্ঘদিন একটা পদে থাকলে কাজটা ঠিক মতো হয়না। যিনি ওই পদে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি আমার ঘনিষ্ট কিনা জানিনা, তবে যথেষ্ট যোগ্য সংগঠক।