তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ভোট পরবর্তী হিংসায় বাঁকুড়ায় মৃত্যু হল এক জনের। মৃতের নাম তন্ময় সাঁতরা (৪০)। বাড়ি জয়পুর থানা এলাকার হেতিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরামপুর গ্রামে।

বিজেপির তরফে মৃত তন্ময় সাঁতরাকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে৷ এই খুনের পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যুক্ত বলে অভিযোগ করছে বিজেপি নেতৃত্ব। এই ঘটনায় যুক্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে বিজেপির পক্ষ থেকে জয়পুর থানা ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।

২৩ মে লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিন গ্রামে দলের পতাকা লাগানোর সময় উপস্থিত তন্ময় সাঁতরাকে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে আঘাত করা হয়। বৃহস্পতিবার ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয়।

যে সমস্ত তৃণমূল কর্মী এই খুনের পিছনে রয়েছে তাদের গ্রেফতার করা না হলে থানা ঘেরাও কর্মসূচী চলবে বলে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে থানা ঘেরাও কর্মসূচী চলবে বলে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে৷

শুক্রবার সকাল থেকেই জয়পুরের বিরামপুর গ্রামে শোকের ছায়া। গ্রামের বিভিন্ন অংশে মানুষের জটলা। বিশাল পুলিশ বাহিনী গ্রামে রয়েছে। মৃতের স্ত্রী অলকা সাঁতরা বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। তার স্বামীকে খুনের ঘটনায় তৃণমূলের লোকেরাই যুক্ত বলে দাবি করেন। বৃদ্ধা মা ষষ্ঠী বালা সাঁতরাও ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি৷ এই ঘটনায় যুক্ত প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই খুনের পিছনে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তৃণমূল নেতা ও জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ইয়ামিন শেখ বলেন, তন্ময় মণ্ডল কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না। উনি একজন শিল্পী মানুষ। বিজেপির লোকেরাই তৃণমূলের এক কর্মীকে মারার জন্য তাড়া করছিল। সেই সময় উনি ওই গণ্ডগোলের মাঝে পড়ে যান।

তৃণমূল এই খুনের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে তিনি দাবি করেন৷ বিজেপির সঙ্গে মিশে সিপিএম এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এই খুনের পিছনে যে বা যারা যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেছেন এই তৃণমূল নেতা।

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশপ সরকার জয়পুর থানায় রয়েছেন। তিনি বলেন, এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যাবে।