স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: একুশ নিয়ে জোরকদমে চলছে তৃণমূলের প্রস্তুতি৷ সোমবার ধর্মতলার খুঁটি পুজোর পর থেকেই মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে৷ গতবারের মতো এবারও চারটি ধাপে মঞ্চ করা হচ্ছে৷ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য হচ্ছে আলাদা পোডিয়াম৷ কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে শহীদ দিবস ঘিরে যে তৎপরতা থাকে দলের সবস্তরে এবার সেটা অমিল৷

‘নো আইডেন্টিটি কার্ড, নো ভোট’-এই দাবিতে করা আন্দোলনের জেরে একুশে জুলাই মাইলফলক হয়ে রয়েছে তৃণমূলের ইতিহাসে। আড়াই দশক পরে ফের একুশেই জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে সেই ভোট নিয়েই নতুন স্লোগান দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এবারের স্লোগান, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, ব্যালট ফেরাও।’লোকসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খেয়ে কাছে এবারের একুশকে একটু অন্যভাবে দেখছে শাসক দল তৃণমূল৷ বলা যেতে পারে, এবারের একুশের মঞ্চ একুশের নির্বাচনের স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণের প্ল্যাটফর্ম হতে চলেছে। তাই কোনও খামতিই রাখতে চাইছেন দলীয় নেতৃত্ব।

ঠিক কী রকম হচ্ছে এ বারের মঞ্চ?

অনেকটা খেলার মাঠের গ্যালারির মতো তৈরি হচ্ছে চারটি স্তরে মূল মঞ্চ। মূল মঞ্চের প্রথমে তৃণমূল সুপ্রিমোর ভাষণ দেওয়ার বর্গাকার ডায়াস অন্য বছরের মতো এবারও সবচেয়ে উঁচুতে থাকছে। তার পেছনে তিনটি স্তরে বাকিদের বসার জায়গা। থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ-সহ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। মূল মঞ্চের পাশে একটি ছোটো মঞ্চে স্থানীয় নেতা ও কাউন্সিলররা বসবেন। তিন ধাপ মঞ্চের প্রথম ধাপ হবে ১০ ফুট লম্বা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ- ৫২/২৪

দ্বিতীয় ধাপ হবে – ১১ ফিট লম্বা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ- ৩৬/২৪ ও তৃতীয় ধাপ হবে – ১২ ফুট লম্বা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ- ৩৬/২০৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য একদম সামনে যে আলাদা পোডিয়াম হয়েছে তার মাপ হবে ১২ ফুট লম্বা , দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ- ১২/৮৷ মঞ্চের পিছনে যেখানে বিশাল পোস্টার লাগানো থাকে, সেই কাঠামোর উচ্চতা ৩৫ ফুট ।
সভাস্থল জুড়ে লাগানো হচ্ছে ১৩০০ মাইক৷

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্য বছরের মতো এ বছরও বড় মিছিলগুলি সভাস্থলে পৌঁছবে শিয়ালদহ স্টেশন, হাওড়া স্টেশন, শ্যামবাজার, হেস্টিংস, হাজরা এবংগিরিশপার্ক থেকে।দূরের জেলাগুলি থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক হাজার তৃণমূল সমর্থক কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন।

তাঁদের জন্য বাইপাসের কাছে মিলনমেলা, আলিপুরের উত্তীর্ণ স্টেডিয়াম, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র-সহ মধ্য ও উত্তর কলকাতার একাধিক ধর্মশালায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অন্যান্যবার এই শহীদ দিবস ঘিরে যে উন্মাদনা দেখা যায় সেটা এবার ‘অদৃশ্য’ সেটা মানছেন খোদ তৃণমূলের অনেকেই৷