গোসাবা: কর্তব্যে অবিচল ‘তিয়াস’। এবার সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আমফান বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণের ঝুলি নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ‘তিয়াস’-এর সদস্যরা। সাড়ে পাঁচশো পরিবারের হাতে তাঁরা তুলে দিয়েছেন শুকনো খাবার, ওষুধ-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

বারুইপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘তিয়াস’। প্রবল উদ্যমী কিছু যুবক নিজেদের প্রচেষ্টাতেই তিল-তিল করে গড়ে তুলেছেন তাঁদের ‘তিয়াস’। লক্ষ্য একটাই, গরিবের পাশে দাঁড়ানো। অদম্য এই ইচ্ছাশক্তি নিয়েই গোটা লকডাউন পর্বে বহু দুঃস্থের খাবারের চাহিদা মিটিয়েছেন ‘তিয়াস’-এর সদস্যরা। দুঃস্থদের জন্য কখনও সকালের টিফিন কখনওবা মধ্যহ্নভোজের ব্যবস্থা করেছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি।

রবিবার গোসাবার মন্মথনগর, রাঙাবেলিয়া এবং জটিরামপুর গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিল ‘তিয়াস’। ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে এতল্লাটের একাধিক গ্রাম। এখনও বহু মানুষ গৃহহীন। দু’বেলা-দু’মুঠো খাবার জোটাতেই হিমশিম দশা পরিবারগুলির। সরকারি ত্রাণ মিললেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই কম বলে দাবি এলাকাবাসীর।

সহায়-সম্বলহীন মানুষগুলিকে একটু সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিল ‘তিয়াস’। সাধ্যমতো প্রায় সাড়ে পাঁচশো পরিবারের হাতে সংস্থার তরফে তুলে দেওয়া হয়েছে খাদ্য সামগ্রী, ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস। একইসঙ্গে বাচ্চাদের কিছু খাবারও আলাদা প্যাকেটে ভরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বারুইপুর থেকে ত্রাণ নিয়ে সড়পথে গোসাবায় পৌঁছে যায় ‘তিয়াস’। তারপর ছোট একটি নৌকায় চেপে সুন্দরবন লাগোয়া গ্রামগুলিতে সফর। ঘূর্ণিঝড় আমফানে তছনছ হয়ে গিয়েছে এলাকার বহু গ্রাম। এখনও সেই সব স্মৃতি টাটকা বাসিন্দাদের মনে। নৌকায় করে ত্রাণ নিয়ে যেতেই নদীর পাড়ে মানুষের ভিড়।

কচি বাচ্চা কোলে নিয়েই খাবার চেয়ে আকুতি মায়েদের। বয়স্করাও বুক সমান নদীর জলে নেমে ত্রাণের জন্য হাত বাড়াচ্ছেন ‘তিয়াস’-এর সদস্যদের দিকে। রবিবার দিনভর এভাবেই ত্রাণ-বিলি কর্মসূচি চালিয়ে গিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী এই সংস্থাটি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ