সরকার, শিকদার, দাস, নাকি চৌধুরী। আপনার পদবী কি? বোকা বোকা প্রশ্ন জানি।  কিন্তু আপনি কি জানেন আপনায় উপাধির কাহিনি। কেন আপনি আপনার নামের শেষে তরফদার কিংবা মজুমদার লেখেন? না জানলে জেনে নিন
শিকদার : আরবি শব্দ শিক আর ফারসি দার যুক্ত হয়ে তৈরি হয়েছে শিকদার। একটি এলাকা বা বিভাগকে আরবি ভাষায় বলা হয় শিক। সুলতানি আমলে কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে একটি শিক গঠিত হত। আর এই শিকের রাজস্ব আদায়দের জন্য যাঁরা থাকতেন তাঁরা বন্দুক বা ছড়ি ব্যবহার করতেন। যেকারণে তাঁরা শিকদার উপাধি পায়। সেই থেকে বংশ পরম্পরায় শিকদার পদবীর বিকাশ ঘটে।

দাস : দাস ও দাশ এক্ষেত্রে দুটি বানান দেখা যায়। গবেষকরা মনে করেন, যারা দাশ লিখেন তারা পেশা ধীবর থেকে এসেছেন। আর দাস পদবী এসেছে ভৃত্য থেকে।

চৌধুরী : বঙ্গীয় শব্দকোষ বলছে, চতুর’ যার অর্থ তাকিয়া বা মসনদ, তার সাথে যুক্ত হয়েছে ধর’ (অর্থ ধারক) এবং এই দুয়ে মিলে হয়েছে চৌধরী’ আর তার থেকেই চৌধুরী’। এদিকে সংস্কৃত চতুধারী শব্দ থেকে এসেছে বাংলা চৌধুরী শব্দ। এর অর্থ চর্তুসীমানার অন্তর্গত অঞ্চলের শাসক। বাংলাদেশের বেশির ভাগ জমিদারদের পদবী হচ্ছে চৌধুরী। তবে ব্রিটিশ-ভারতের প্রায় সর্বত্র এ পদবীর অস্তিত্ব ছিল। কারণ চৌধুরী ছিল সামন্ত রাজার পদবী।

মজুমদার : রাষ্ট্রের ও জমিদারির দলিল পত্রাদির রক্ষক রাজকর্মচারীদের মজুমদার পদবী দেওয়া হত। তাই হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সমগ্র বাংলায় মজুমদার পদবীর ব্যবহার লক্ষণীয়।

তরফদার : আরবি তরফ এবং ফারসি দার শব্দ দুটি  মিলে তরফদার শব্দের সৃষ্টি। রাজ্যের খাজনা আদায় ও তদারককারীদের উপাধি ছিল তরফদার। এই পদবী ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর পূর্ব পুরুষরা রাজকার্য পরিচালনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন,সেখান থেকেই এই বংশ পদবী উৎপত্তি ও প্রচলন।

তালুকদার : মোগল ও ব্রিটিশ আমলে রাজস্ব ও ভূমি সংক্রান্ত বিষয়াদি থেকে যে সমস্ত পদবীর উৎপত্তি ও বিস্তার তার মধ্যে তালুকদার হচ্ছে অন্যতম পদবী। আরবি শব্দ তা ‘আল্লুক’ যার অর্থ ভূ-সম্পত্তি। এর সঙ্গে ফারসি দার  যুক্ত হয়ে তালুকদার শব্দের উৎপত্তি। প্রকৃত পক্ষে, যিনি তালুকদার  তিনি জমি ও ক্ষুদ্র ভূ-সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিতেন সরকারের কাছ থেকেও যেমন, তেমনি জমিদারের কাছে থেকেও। ফলে তিনি হতেন উপ-জমিদার সেই অর্থেই এসেছে তালুকদার।

সরকার : সরকার শব্দটি ফারসি থেকে আগত। এর অর্থ প্রভু,  মালিক, ভূস্বামী, শাসনকর্তা, রাজা। অর্থ আদায় ও ব্যয় সংক্রান্ত কর্মচারী ও সরকার। মোগল আমলে এদেশের স্থানীয় রাজকর্মচারীদের এ পদবী দেয়া হতো। মোট কথা প্রধান কর্মচারী এবং সম্পত্তি দেখাশুনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকে সরকার বলা হতো। বাঙালি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই এ পদবীর ব্যবহার আছে।

মল্লিক : আরবি মালিক  শব্দ থেকে এসেছে মল্লিক  পদবী। গ্রাম প্রধান বা সমাজের প্রধান ব্যক্তি মালিক। আবার লিপিকুশল রাজকর্মচারীকে মোগল আমলে মল্লিক বা সুলেখক আখ্যা দেয়া হত বলে জানা যায়। দুভাবেই এসেছে মল্লিক পদবী।

মন্ডল : বাঙালি হিন্দু-মুসলিম সমাজে সমান ভাবে ব্যবহৃত হয় মন্ডল পদবী। অতীত কাল থেকেই গ্রাম- প্রধানকে বলা হয় মন্ডল। বাংলা মন্ডলরা আগে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। মন্ডলীয় কাজ করে তারা অনেক অধিকার ভোগ করতেন। খাজনা আদায়কারী ও রায়তদের মধ্যস্থতা করা কিংবা গ্রামীণ বিবাদ আপোষ মীমাংসা করতে মন্ডলরা কার্যকরী ভূমিকা পালন করতেন। কোন কোন সময় তাদের অধীনে পাটোয়ারি, তহসিলদার, চৌকিদার ইত্যাদি কর্মচারী কাজ করতেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।