সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: হিন্দু শাস্ত্রে তিনি বিদ্যা দান করেন। সংস্কৃতি রক্ষা করেন। কিন্তু সেই দেবী বৌদ্ধ ধর্মের আঙ্গিকে গিয়ে কিছুটা পাল্টে যান৷ তিনি ধর্মগ্রন্থকে রক্ষা করেন। হিন্দু শাস্ত্রে গীতা রক্ষাকারী কোনও দেবীর খোঁজ মেলে না। বৌদ্ধ ধর্মে বীণা হাতে সরস্বতী রক্ষা করেন ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক।

সরস্বতী বৌদ্ধধম্মে ত্রিপিটক রক্ষাকারী দেবী হিসেবে পরিচিত। হয়তো সেই কারণেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেশগুলিতে তাঁর পূজার প্রচলন রয়েছে। পালিতে ‘সূরস্সতী’ নামে ডাকা হয়। মায়ানমারে ‘থুরাথান্ডি’ বা তিপিটকা মেডাও নামে পরিচিত। একইভাবে জাপান, থাইল্যান্ড ও চিনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁর জন্ম মায়ানমারে। তিনি জন্মের পর ধীরে ধীরে ত্রিপিটক ধারণ করেন এবং কালান্তে স্বর্গে গমন করেন। এবং পরবর্তীতে স্রোতস্বিনী হন। খ্রিস্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতকে রচিত মহাযান বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ মহাযান সূত্রেও সরস্বতীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ‘জাপানি’ সরস্বতীর মতো পুজো হয় বাংলার এই মন্দিরে

এবার হিন্দু শাস্ত্রে সরস্বতী জ্ঞান, সঙ্গীত ও শিল্পকলার দেবী। ঋক, বেদে তিনি বৈদিক সরস্বতী, নদীর অভিন্ন এক রূপ। সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মার পত্নী লক্ষ্মী ও পার্বতীর সঙ্গে একযোগে ত্রিদেবী নামেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর। উল্লেখ্য এই ত্রিদেবী যথাক্রমে ত্রিমূর্তি সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা, পালনকর্তা বিষ্ণু ও সংহারকর্তা শিবের পত্নী। হিন্দুদের বিশ্বাস, সরস্বতী প্রাচীনতম হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ প্রসব করেন। তবে তাঁর উৎপত্তি নিয়ে হিন্দু ধর্মে বলা হয়েছে তিনি ব্রহ্মার অংশ এবং যাকে নদীমাতা বলে। মূলত: হিন্দু ধর্মে সরস্বতী হলেন উত্তর-পশ্চিম ভারতের সরস্বতী নদী।

উপনিষদ থেকে যে তথ্য মেলে সেই অনুযায়ী, আগুন মানুষ ও সৃষ্টিকর্ত্তার মধ্যে সংযোগকারী উপাদান। একদিন ঈশ্বর সিদ্ধান্ত নেন আগুনকে তিনি সাগরে পাঠাবেন এবং এই দায়িত্ব তিনি সরস্বতীর উপর দেন। তখন সরস্বতী নদী এক কাজ করেছিলেন। সব মিলিয়ে হিন্দু ধর্মেও তিনি যেমন বিদ্যা ও এক নদী হিসাবে পরিচিতি রয়েছে তেমন থেরবাদী বৌদ্ধধর্মে সরস্বতী হলেন প্রজ্ঞাদেবী অথবা বিদ্যাদেবী এবং স্রোতাপন্নাও।

প্রসঙ্গত বৌদ্ধ ধর্মে দেব, দেবীদের নিয়ে ত্রিপিটকের বিমানবথুতে বিস্তারিত বর্ণনা আছে। বৌদ্ধ শাসন রক্ষক কিছু প্রধান দেব দেবীদের তালিকায় রয়েছেন সরস্বতী। সেই তালিকায় রয়েছেন দেবরাজ ইন্দ্র, চারলোকপাল দেবরাজ এবং ত্রিপিটক রক্ষাকারী দেবী সরস্বতী।