সুপর্ণা সিনহা রায় : বাংলা থেকে দূরে মরু শহর দুবাইতেও হল মাতৃ আরাধনা৷ যথাযোগ্য রীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে উমাকে ঘিরে চারদিন ছিল হৈ হৈ কাণ্ড৷ আর এই গোটা কর্মকাণ্ড সামলালেন শুধুমাত্র মহিলারাই৷ বং কানেকশন দুবাইয়ের প্রমীলাবাহিনী৷ পুজোর থিমে তুলে আনা হয় সে কালের বাঙালিয়ানা৷ হোটেলের ব্যাঙ্কোয়েটে গড়ে তোলা হয় জমিদার বাড়ির ঠাকুর দালান৷ তুলে ধরা হয় বাঙালি কালচার৷ থিম পুজোয় ‘সেই সময়’কে তুলে ধরতে কড়িকাঠে ঝুলছে বড়বড় হাত পাখা৷ সবটাই নিখুঁত৷

আর এসব কাজই হল মহিলাদের দ্বারা৷ তাঁরা সামলালেন দশ দিক৷ দশভূজার আরাধনায় মেতেছে দুবাই৷

চণ্ডীপাঠ মহালয়ার পর ষষ্ঠীতে মায়ের বোধনের সঙ্গে পুজোর শুরু৷ এরপর একে একে সপ্তমীপূজা নবপত্রিকা স্নান অষ্টমীতে অঞ্জলি সন্ধিপুজো নবমীপুজো এবং অবশেষে দশমীর বিষাদের শুর বাজল৷ সবটাই হল নিয়ম ও নিষ্ঠা ভরে৷ তবে এই কদিনের বিশাল কর্মকাণ্ড যাঁরা সামলালেন তাঁদের কাজ শুরু হয়েছিল অনেক আগে৷ বেশ কয়েক মাস ধরে চলে এই কর্মযজ্ঞ৷

কারণ এই দিনগুলোতে ছিল আরও অনেক কাজ৷ দুবাইয়ে ১৪০ টি পরিবারের সবকটি মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করা ও সকলে মিলে আনন্দ করা এটাও বিরাট কাজ৷ পুজোয় ছোটদের জন্যও ছিল হরেক খেলা৷ তারাই নিজেদের মত করে প্রবাসে থেকেও নিজেদের মত করে তাদের দুর্গাকে মন থেকে ফুটিয়ে তুলেছে আর তাতে ভরেছে রঙ৷ গহনার ডিজাইনও এঁকেছেন মহিলারা তাদের অ্যাকটিভিটিতে৷ হিসাবরক্ষক থেকে খাবারের দায়িত্ব সেদিকও সামলেছেন বঙ্গ তনয়ারা৷ পুজোর আরও একটি বিশেষত্ব ছিল বং কানেকশনের শাড়ি৷ সব মেয়েরা বং কানেকশনের শাড়ি পড়েই দশমীতে ঠাকুর বরণ করলেন৷ শাড়ির ডিজাইনও করেছেন এই বং কানেকশনেরই আরেক মেয়ে রুপা৷

এই পুজোর কথা বলতে গেলে তিন মেয়ে মধুমিতা তনুশ্রী ও সূচীশুভ্রার কথা না বললে চলবে না৷ যাদের উপর ছিল গুরু দায়িত্ব৷ মধুমিতা জানালেন “উনবিংশ শতাব্দীর স্থাপত্যকে মনে রেখে আমরা এই থিমকে তুলে ধরেছি৷ আমাদের সাত বছরের পুজো৷ থিম পুজোই করা হয় প্রতিবছর৷” তনুশ্রী বললেন “আমরা মেয়েরা মিলেই পুজোর প্রতিটা কাজ করেছি৷ এখানে ঢাকটাও মেয়েরাই বাজিয়েছেন৷” সূচীশুভ্রা জানালেন “অনেক মাস ধরে আমাদের এই পরিকল্পনা৷ এই পাঁচ দিনের মধ্যে আমরা চেষ্টা করি পুজো যেন সুষ্ঠুভাবে হয়৷ বিসিডির মেম্বারদের ধন্যবাদ যে তাঁরা আমাদের মেয়েদের উপর ভরসা করে এতবড় দায়িত্ব দিয়েছেন৷” নিজেদের কাঁধের উপর থাকা দায়িত্ব সামলানোর পর চওড়া হাসি ছিল তিন তন্বীর মুখে৷

এর মাঝেই ছিল বিদায়বেলায় মা কে বরণ করা৷ তারপর ঢাকের তালে কোমর দুলল সকলের৷ তালে তালে চলল নাচ৷ ময়দান জয় করার গৌরবে উজ্জ্বল ছিলেন সকলে৷ আরব মুলুকের মরু দেশ আমিরশাহীতে একসঙ্গে ঝড় তুললেন বঙ্গ তনয়ারা৷ এর মাঝেও বাকিরা নিজেদের কাজ সামলে চেলেছেন৷ হিসাবরক্ষক কাজ করে চলেছেন ল্যাপটপে৷ খাবার দায়িত্ব যিনি নিয়েছেন তিনি দেখছেন খাবার ঠিক মত এল কি না৷ কোন খাবার টা কার পরে রাখা হবে৷ বুফে সিস্টেম৷ যে যাঁর মত নিয়ে খাচ্ছেন৷ দশমীর দুপুরের খাবার ছিল ধোঁকার ডালনা ফুলকপির বড়া কচি পাঁঠার মাংস সাদা ভাত ও শেষ পাতে বোঁদে৷ পুজোর পাঁচদিন হরেক রকম পদ ছিল৷ তার সঙ্গে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও৷ সময় হয়ে গিয়েছে জয়াকে বিদায় দেওয়ার৷ আনন্দ করেই বিদায় জানালেন মেয়েরা৷ দুবাই থেকেই মা পাড়ি দেবেন কৈলাসে৷ আবার শুরু হবে রোজকার যুদ্ধ৷ যেখানে প্রতিদিন সামলাতে হাজার কাজ৷ আবার ঘরে হেঁসেল সামলানো মেয়েরা অফিস সামলানো তো আছেই৷ তার মাঝেই দুর্গা পুজোর মত গুরুদায়িত্বও সামলান৷ আবারও প্রমাণ হল মেয়েরা মা দুর্গার মতই দশ হাত নিয়ে চলেন৷ দুটো দেখা যায় বাকি গুলি অদৃশ্য হলেও প্রমাণ রেখে যায় বারবার৷