দেবময় ঘোষ: ‘টাইম ম্যাগাজিন ’সাম্প্রতিকতম সংখ্যার ‘কভারে’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিত্র প্রকাশিত হয়েছে৷ শিরোনাম ‘India’s Divider in Chief’ বা ভারত বিভাজনের হোতা৷ প্রশ্ন তোলা হয়েছে ভারত কী আরও পাঁচ বছর মোদী সরকারকে সহ্য করতে পারবে?

সংখ্যাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিরোধীরা বিষয়টিকে ইস্যু তৈরি করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে৷ মহিলা কংগ্রেস বিশেষভাবে প্রতিবেদনটির প্রথম লাইনটিতেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছে – “Of the great democracies to fall to populism, India was the first.” যার অর্থ, ‘‘মহান গণতন্ত্রের জনপ্রিয়তায় পতন, ভারতই প্রথম স্থানে থাকবে৷’’ এই একটি লাইনই নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেছে কংগ্রেস৷

মহিলা কংগ্রেস নরেন্দ্র মোদীকে ট্যুইট করে জানিয়েছে, “Your truth is for all to see,” (আপনার সত্যটা সকলে দেখতে পাবে)৷ তবে এর মাঝেই প্রশ্ন উঠেছে ভারতে নির্বাচনের দুটি পর্বই মাত্র বাকি রয়েছে৷ এই সময় এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কারণ কী? আগেই কি এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারত না? নির্বাচন পর্ব যখন প্রায় মিটে যেতে বসেছে তখন এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে কী লাভ হল? – প্রশ্ন তুলেছে তুলেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ আগামী ২৩ মে ভারতের আগামী ৫ বছরের ভবিষ্যত স্থির হয়ে যাবে৷ ঠিক হয়ে যাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী ফিরছেন নাকি দিল্লির তখত দখল করতে আসছে কোনও বিকল্প শক্তি৷ আতিশ তাশির – প্রতিবেদনটির লেখক৷ তাঁকে নিয়েও প্রশ্ন উঠা শুরু হয়ে গিয়েছে৷ কে এই আতিশ তাশির? ভারতীয় সাংবাদিক তলভীন সিং এবং পাকিস্তানি রাজনৈতিক নেতা এবং ব্যবসায়ী সলমন তাসিরের ছেলে আতিশ ব্রিটেনে জন্মেছেন৷ কিন্তু বড় হয়ে উঠেছেন দিল্লিতে৷ ম্যাসাচুসেটের আর্মহার্স্ট কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি টাইম ম্যাগাজিনে ফ্রিলান্স সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করেন৷ The Twice-Born: Life and Death on the Ganges – তার বই ইতিমধ্যেই বেস্টসেলার৷

প্রতিবেদনে আতিশ লিখেছেন, ‘‘বিশ্বের সব থেকে বড় গণতন্ত্র এই প্রথম সব থেকে বেশি বিভক্ত৷’’ প্রতিবেদনে তিনি আলোচনা করেছেন বিভিন্ন বিষয়৷ ভারতে গণপিটুনিতে মৃত্যু, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথের উত্থান, ভোপালের বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর৷ তবে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন কংগ্রেসকেও সস্তিতে থাকতে দেবে না৷ বিরোধীদের দূর্বল, অসংলগ্ন জোট এবং কংগ্রেস পরিবাদবাদ থেকে আর বেশি কী দিতে পারে – লিখেছেন আতিশ৷ রাহুল গান্ধীকে “an unteachable mediocrity” অর্থাৎ এক মধ্যমেধা যাকে শিক্ষিত করে তোলা দুষ্কর – এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন তিনি৷

তবে টাইমের এই সংখ্যা যে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বস্তিতে রাখবে না তা কুন্ঠাহীন ভাবে বলে যায়৷ ২০১৫ সালে টাইম ম্যাগাজিনে মোদীর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল৷ মোদী ওই পত্রিকার পাঠকদের বিচারে TIME Person of the Year – নির্বাচিত হয়েছেন একাধিকবার৷