নয়াদিল্লি : চোখে পড়ার মতো স্বীকৃতি। ভারতের কৃষক বিক্ষোভের মহিলা নেত্রীদের ছবি প্রকাশ টাইম (TIME) ম্যাগাজিনের কভারে। মার্চ মাসের সংস্করণে এই ছবি প্রকাশিত হয়েছে। কভারের শিরোনাম ‘On the Frontlines of India’s Farmer Protest’। এই ছবিতে একদল মহিলা কৃষক নেত্রীকে দেখা যাচ্ছে। দিল্লির টিকরি সীমান্তে দাঁড়িয়ে ছবিটি তোলা হয়েছে।

টাইমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে গত ১০০ দিন ধরে বিক্ষোভরত কৃষকদের কথা। যেখানে বলা হয়েছে, তাঁদের দমানো যাবে না, তাঁদের কেনা যাবে না (I Cannot Be Bought)। সেই সব মহিলা কৃষকদের কথা এখানে তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধ না মেনে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লির প্রবল শীতে মহিলা ও বয়স্ক কৃষকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই বিক্ষোভকারীরা তাতে আমল দেননি।

৭৪ বছরের এক মহিলা কৃষকের দাবি কেন তাঁরা বাড়ি ফিরে যাবেন। এটা শুধু পুরুষ কৃষকদের বিক্ষোভ নয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন তাঁরা। তাঁরাও কৃষক। পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা সেই সব মহিলা কৃষকরা ফিরে যাওয়ার উত্তরে সমস্বরে ও সোচ্চারে না বলেছেন। প্রতিবেদনে ঠিক এই শব্দই প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে, ১০০ তম দিনে পড়ল রাজধানীতে চলা কৃষক আন্দোলন। সপ্তাহ দুয়েক আগে সংযুক্ত কিষাণ মঞ্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে আন্দোলনরত ২৪৮ কৃষকের। তবুও সাফল্য এখনও আসেনি। রাস্তায় আন্দোলনরত, ধর্না দেওয়া অন্নদাতাদের আর্তনাদ এখনও গলাতে পারেনি সরকারের মন। এর মধ্যে অবশ্য আন্দোলন ভাঙতে চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে বারবার। কখনও বলপূর্বক, আবার কখনও মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন কৃষকেরা। তবুও রাজধানী ঘিরে অনড়, দৃঢ় সংকল্পিত কৃষকেরা।

তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনকে বদনাম করার চেষ্টাও হয়েছে! ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমাও জুটেছে কপালে। কিন্তু যত বাধা এসেছে ততই যেন ধীর, স্থির আরও বেশি সংকল্পিত হয়েছেন কৃষকেরা। যত তাঁদের আটকানোর চেষ্টা হয়েছে, তত যেন ট্র্যাকটর চালানো হাত আকাশের দিকে মাথা তুলে অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়েছে। কোনও ভাবে বন্ধ করা যায়নি কৃষক আন্দোলন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.