লন্ডন: কয়েকদিন আগেই ভারতে টিক টক ব্যান করে দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫৯টি চিনা অ্যাপের মধ্যে নাম ছিল টিক টকের। আমেরিকাও সেই পথে হাঁটতে পারে বলে জানিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই পরিস্থিতিতে আচমকা যেন স্তব্ধ হয়ে গেল চিন সংস্থার এই জনপ্রিয় অ্যাপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এমন অভিযোগ আসতে শুরু করেছে।

এদিন অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছেন যে টিক টকে তাঁদের ভিডিওতে জিরো ভিউ দেখা যাচ্ছে, অর্থাৎ কোনও ভিউ হয়নি। এক-দু’জন নয়, হাজার হাজার মানুষ এমন অভিযোগ জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তবে কী টিক টক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল? অনেকেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কারণ, গত কয়েকদিন ধরেই এই ইস্যুতে কথাবার্তা চলছে মার্কিন মুলুকে।

‘ডাউনডিটেকটর’ ওয়েবসাইটে ১৭০০০ মানুষ টিক টক নিয়ে সমস্যার কথা বলেছেন।

প্রথমে আমেরিকা ও ইউকে-তে এই সমস্যার সূত্রপাত। কিন্তু পরে বিশ্বের একাধিক জায়গা থেকে সমস্যার কথা বলছেন অনেকেই। ট্যুইটারে সেসব লিখছেন তাঁরা। অনেকেই জানিয়েছেন তাঁরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে ঠিকমত লগ ইন করতে পারছেন না। কেউ আবার নিজের প্রোফাইলটাই খুঁজে পাচ্ছেন না।

টিক টক সহ ৫৯টি অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভারতে। এরপর আমেরিকাতেও টিক টিক বন্ধ করার ভাবনা-চিন্তা করছেন বলে জানিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনিতেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে চিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন যে, চিন ইচ্ছাকৃতভাবেই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করেনি।

আমেরিকা ও চিনের সেই বাদানুবাদের প্রভাবেই এবার টিক টক ব্যান করার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন।

ট্রাম্প চিনকে শিক্ষা দিতেই অ্যাপ ব্যান করার পথে হাঁটতে চান। চিনা সংস্থার অধীনে কাজ করা এই অ্যাপ ইতিমধ্যেই বিশ্ব জুড়ে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কয়েক বিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার রয়েছে সেই অ্যাপের।

মঙ্গলবার ‘ব্লুমবার্গ টিভি’তে একটি সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকা তথা গোটা বিশ্বের সঙ্গে চিন এই ভাইরাস নিয়ে যা করেছে, তা অত্যন্ত খারাপ।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একদিন আগেই মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও বলেন, চরবৃত্তি নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে, তাই টিক টক সহ একাধিক চিনা অ্যাপ ব্যান করার কথা ভাবছে আমেরিকা।

ByteDance নামে চিনা সংস্থার অ্যাপ এই টিক টক। এই সংস্থা বারবার বলেছে যে, তারা কোনও ডেটা চুরি করছে না। টিক টকের মুখপাত্র ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, ‘মার্কিন সিইও-র নেতৃত্বে চলে টিক টক। আমেরিকা জুড়ে এই অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শতাধিক কর্মী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনও ডেটা আমরা চিনে পাঠাইনি, আমাদের পাঠাতে বলাও হয়নি।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ