ঢাকা:  বুথ কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনা বেড়েই গেল বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনে৷ প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল তাদের নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে- ভোট এবং গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছাড়তে৷ ফলে নির্বাচন ও গণনা ঘিরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির আভাষ মিলতে শুরু করেছে৷ এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনওরকম নাশকতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে৷

নির্বাচন উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা জারি হয়েছে বাংলাদেশের সর্বত্র৷ রাজধানী ঢাকা ও বিভিন্ন শহর প্রকাশ্যে টহল দিচ্ছে সেনা৷ নামানো হয়েছে ব়্যাব ও পুলিশ বাহিনী৷ জঙ্গি হামলার আশঙ্কা থাকছে৷ ফলে রয়েছে বাড়তি সতর্কতা৷ এদিকে ভোট ঘিরে জনগণ সন্ত্রস্ত বলেই অভিযোগ বিরোধী বিএনপি ও ঐক্য জোটের৷ আর সরকার পক্ষের দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচন পরিবেশ বজায় রয়েছে৷

দেশের নির্বাচন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ বলে জানিয়ে দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ৷ তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে আমরা দেখেছি, নির্বাচনের অত্যন্ত চমৎকার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। বিগত ৪৭ বছরে এই রকম শান্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমি দেখিনি। তবে ক্৷ু মাত্রায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ যে হয়েছে তা স্বীকার করেছেন সেনাপ্রধান৷

গত কয়েকদিনে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে৷ সেইসব মাথায় রেখে বিরোধী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্বাচন একটা উৎসব। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই উৎসবের পরিবেশ নেই, একটা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চাই। মা বোনদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি সহযোগী এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড, কামাল হোসেনও নির্বাচনে অশান্তির পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারপক্ষ আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন৷

আর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের স্বার্থে ভোট চেয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে নাশকতার পরিবেশ যারা তৈরি করেছে তাদের রুখতে চেষ্টা চলবেই৷ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই আমাদের দলীয় কর্মীরা ভোট কেন্দ্র ছেড়ে যাবেন না৷ অশান্তি প্রতিরোধ করা হবেই৷

ফাইল ছবি

নির্বাচন চলাকালীন বুথ ভিত্তিক সংঘর্ষের দিকেই যাচ্ছে একাদশ তম জাতীয় নির্বাচন সেই আশঙ্কা আরও প্রবল হল৷ বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা আগেই আক্রান্ত হয়েছেন৷ প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের নিঃস্পৃহ ভূমিকা নিয়েও৷ একাধিক সংবাদ মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশের কথা বলে হয়েছে৷ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদ মাধ্যমও উদ্বিগ্ন৷

রবিবারে ভোট কি রক্তাক্ত হচ্ছে ? প্রশ্ন নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন ভোটাররা৷