সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : কড়া নিরাপত্তায় ভোট হচ্ছে উত্তর কলকাতায়। তার মাঝেই বোমাবাজির খবর মিলেছে পোস্তায়। যাতে আর কোনও গণ্ডগোল না হয় তার জন্য আরও সক্রিয় কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের এই কড়া নিরাপত্তার জেরে মন্দা সোনাগাছিতে। রবিবারের দুপুর মানে ভরপুর ব্যবসা হয় সোনাগাছিতে কিন্তু ১৯ মে রবিবার সোনাগাছিতে গিয়ে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টোচিত্র। ধু ধু করছে ফাঁকা সোনাগাছির অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিটের লম্বা রাস্তা।

বড় রাস্তা থেকে গলি কোনও জায়গাতেই আজ সোনাগাছির মেয়েদের দেখা নেই। যে কয়েকজন বসে আছেন তাদের মুখও ব্যজার। ভরা রবিবারের ছুটির দিনে মন্দার ছায়া তাদের চোখে মুখে স্পষ্ট। দুর্বার মহিলা সমিতির সম্পাদক কাজল বোস বলেন , “আজকে ভোটের জন্য এমনিতেই অনেক মেয়ে নেই। যাদের ভোটার কার্ড হয়েছে তারা ভোট দিতে গিয়েছে। তাছাড়া আরও একটা বিষয় আছে।” কাজল দে ‘র কথায় , “এমনিতেই সারা বছর পুলিশের জরজুলুম আমাদের মেয়েদের উপর রয়েছে। কাস্টমার নিয়ে চলে যায়। আমাদের পেটের ভাত মার খায়।

 

এবার এই ভোটের জন্য প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে পুলিশ দিয়েছে। সব বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কাজেই বেশি আঁটসাঁটো নিরাপত্তার জন্য কাস্টমার এমনিতেই ভয়েতে আসতে চায় না। যে কোনও ভোটের দিনেই এই অবস্থা হয়। তাই কাস্টমার থাকে না। এবারেতো শুনছি আরও বেশি করে পুলিশ, মিলিটারি নিয়ে আসা হয়েছে। তাই যারা খদ্দের তারা জানে ঝামেলা আছে আজকের দিনে। তাই আজকে কেউ আসবে না। সে যাই হোক দিনের শেষে আমাদের রোজগারে সমস্যা হয়।”

দুপুর বারোটা একটা , তাও আবার ছুটির দিন। বসন্ত কেবিনের পর থেকে লাল মন্দির হয়ে অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিট পর্যন্ত রাস্তার ফুটপাথ দিয়ে সাধারণ মানুষ চলতে পারে না। দালালদের ডাকাডাকি , যৌনকর্মীদের চোখের ইশারা চলে হরদম। যে যার মতো পারে মেয়েরা শরীর দিয়ে পেটের ভাত জুটিয়ে নেয়। কিন্তু আজকের ছুটির দিনটা অন্যরকম। না আছে কোনও আড় চোখের ইশারা, না আছে কোনও হাত ধরে টান কিংবা দালালদের ‘লাগবে নাকি?’ মার্কা প্রশ্ন। সৌজন্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সাদা পোশাকের কলকাতা পুলিশের কড়া নজর।

 

সবমিলিয়ে আজকের নির্বাচনের জন্য রাজ্যের প্রত্যেক বুথে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যের নয় কেন্দ্রের জন্য ৭১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হয়েছে, শুধু কলকাতার জন্য রয়েছে ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ছবি – সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়