ঢাকা: বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার বিরাট পরিকল্পনা করেছে ইসলামিক স্টেট৷ তাদের বাংলায় দেওয়া হুমকি চিন্তায় রেখে প্রশাসনকে৷ আসন্ন ঈদে আর যেন ২০১৬ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেই দিকেই জোর দিয়েছে পুলিশ ও জঙ্গি দমন বাহিনি৷ তিন বছর আগে রমজানের সময় ঢাকার হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে হামলা ও ঈদের দিনে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার মাঠে নাশকতার স্মৃতি এখনও দগদগে৷ সেরকম পরিস্থিতি রুখতে পরপর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে৷ রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর, যশোর সহ সর্বত্র জারি হয়েছে সতর্কতা৷

২০১৬ সাল বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক রক্তাক্ত ঈদ হিসেবে পরিচিত৷ ঢাকার গুলশনে জঙ্গিরা হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে ঢুকে গ্রাহক ও বিদেশিদের খুন করে৷ পরে বিরাট জঙ্গি দমন অভিযান চালিয়ে তাদের খতম করে বাংলাদেশ সরকার৷ ঠিক কয়েকদিন পরে শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের দিন নমাজ পাঠের সময় আত্মঘাতী জঙ্গি বাহিনি হামলা চালায়৷ নিরাপত্তারক্ষীরা একজনকে ধরে ফেলেন, বাকিদের খতম করা হয়৷ প্রবল আতঙ্ক ছড়ায়৷

চলতি বছরে ঈদ উপলক্ষে তাই কোনওরকম নিরাপত্তার ফাঁক রাখা হচ্ছে না৷ পবিত্র ঈদ উল ফিতর সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদগাহ ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ এমনই জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ। তিনি বলেন- সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলা এবং বাংলাদেশের ভেতরে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এই কারণেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ঈদ জমায়েত হল শোলাকিয়ার মাঠে নমাজপাঠ৷ এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ১০টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ঈদগাহকে কেন্দ্র করে ৩২টি চেকপোস্ট, ১৭টি পিকেট (নির্ধারিত স্থানে বসে দায়িত্বপালন) ও রোড ডিউটি থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্যে প্রত্যেক মুসল্লিকে তিনটি স্তর পার করে দেহ তল্লাশির মধ্য দিয়ে মাঠে প্রবেশ করানো হবে।

এছাড়া মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে, বম্ব ডিসপোজাল টিম থাকবে এবং মাইন মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ঈদগাহ সুইপিং করা হবে। পুলিশের চারটি ও র‍্যাবের দু’টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভিডিও ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ওপেন সার্কিট ক্যামেরা অর্থাৎ ড্রোন দিয়েও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ঈদের দিন এক হাজার ২০০ পুলিশ, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, ১০০ র‍্যাব সদস্য থাকবেন নিরাপত্তায়। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদের দিন মুসল্লিদের কেবল জায়নামাজ নিয়ে মাঠে প্রবেশের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।