কলকাতা: ফের শহর থেকে উদ্ধার হল বাঘের চামড়া৷ গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে৷ ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো এবং ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট যৌথভাবে হানা দিয়ে এই সাফল্য পেল৷

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাইপাসের ধারে একটি হোটেলে হানা দেয় বন দফতরের আধিকারিকরা৷ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় পূর্ণ বয়স্ক একটি বাঘের চামড়া৷ এবং হোটেল থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে৷ ধৃতরা হল অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়, তারক হালদার, ইব্রাহিম মণ্ডল৷ এদের মধ্যে অনিন্দ্য এবং তারকের বাড়ি কলকাতায়৷ ইব্রাহিমের বাড়ি অশোকনগরে বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷

বন দফতর সূত্রে খবর, হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়া চামড়াটি রয়াল বেঙ্গলে টাইগারের৷ ফলে ধৃতদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে৷ এবার পুলিশ ধৃতদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জানতে চাইবে, কোথা থেকে বাঘের চামড়াটি আনা হয়েছে৷ এবং কোথায় পাচার হচ্ছিল৷ এছাড়া এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা৷

এর আগেও খাস কলকাতা থেকে বাঘের চামড়া উদ্ধার হয়েছে৷ সেবারেও চামড়াসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল দুইজনকে৷ যার আনুমানিক মূল্য ২০ লক্ষ টাকা৷

বন দফতরের বন্যপ্রাণ শাখার আধিকারিকরা গোপন সূত্রে খবর পান যে, বেশ কিছুদিন ধরে এক ব্যক্তি কলকাতায় একটি বাঘের চামড়া বিক্রির চেষ্টা করছে। তখন বন দফতরের আধিকারিকরা ক্রেতা সেজে হাতিবাগানে হানা দিয়ে হাতেনাতে একজনকে ধরে ফেলেন। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও একজনের নাম জানতে পারে।

তারপর ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বন দফতরের আধিকারিকরা। ধৃতদের নাম সৌরভ দাস ওরফে গোপাল ও তপব্রত মজুমদার। ধৃত দুই জনের বাড়িই শ্যামবাজার। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বাঘের চামড়াটি । এই বাঘের চামড়াটি ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার চেষ্টা হচ্ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ধৃতরা স্বীকার করে নিয়েছে বলে দাবি বন দফতরের কর্তাদের।