সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: লালগড়েই রয়েছে বাঘ! বনকর্মীদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে সে! এমনটাই জানাল এ বার বন দফতর।

গত একমাসে বনকর্মীদের ‘চোখের জলে নাকের জলে’ করে ছেড়েছে বাঘের উপস্থিতি। পাশের জেলা বাঁকুড়ায়ও বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছিল। এতে আরও সমস্যায় পড়েছিলেন বনকর্মীরা। তবে, সংশয়ের দিন শেষ! কারণ, বাঘ ‘ফিরে’ এসেছে লালগড়েই!

২ মার্চ, লালগড়ের জঙ্গলেই প্রথম শুরু হয়েছিল বাঘের আতঙ্ক। এর কিছু দিন আগে থেকে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসছিল যে, তাঁদের গরু ও ছাগল উধাও হয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছু গবাদি পশু রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল। এর পরেই লালগড়ের জঙ্গলে ট্র্যাক ক্যামেরা বসানো হয়। ক্যামেরায় ধরা পড়ে বাঘের ছবি৷ বন দফতরের কাছে ‘পরিষ্কার’ হয়ে যায় পশু নিখোঁজ হওয়ার কারণ৷ এর পর থেকেই লালগড়ের বিভিন্ন গ্রামে দেখা মেলে বাঘের পায়ের ছাপ। মেদিনীপুর ছেরে বাঁকুড়ায়ও বাসা বেঁধেছিল বাঘের ভয়।

মঙ্গলবার মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা kolkata24x7.com-কে বলেছেন, “লালগড়ের জঙ্গলেই বাঘটা আছে। আমাদের ট্র্যাকের এক থেকে দেড় বর্গকিলোমিটারের মধ্যেই রয়েহে বাঘ।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “বাঘটাকে আমরা প্রত্যেকদিনই দেখতে পাচ্ছি। শুধু ওকে জালে ধরার অপেক্ষায় রয়েছি।”

এমন কাছে থেকেও এখনও দেরি হচ্ছে কেন বাঘ ধরতে? রবিকান্ত সিনহা এ দিন বলেন, “ আজকেও ওর পায়ের ছাপ পেয়েছি জঙ্গলে। বাঘ ধরা সহজ ব্যপার নয়। একটা বাঘের ছবি তুলতে গিয়ে একজন ফটোগ্রাফারের দিনের পর দিন কেটে যায়। এটা শুধু বাঘের ছবি তোলার ব্যাপারও নয়, একটা বুনো বাঘকে খাঁচার মধ্যে বন্দি করবার মতো গুরুতর বিষয়৷ সময় লাগবে।”

বাঘকে বাগে আনার জন্য কোন টোপ দেওয়া হচ্ছে? রবিকান্ত সিনহা বলেন, “ছাগলের পাশাপাশি এখানে অনেক শূকর ঘুরে বেড়ায়। দুটোই রেখেছি। দেখা যাক বাঘ কীসের লোভে ধরা দেয়।” লালগড়ের জঙ্গলে এখনও ৩০ জনের দল বাঘ ধরার জন্য কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্য বনপাল। দু’জন বাঘ বিশেষজ্ঞও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি বাঘের আতঙ্ক কমানোর জন্য এলাকায় মাইক নিয়েও বন দফতরের তরফে প্রচার চলছে বলে জানানো হয়েছে৷