সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বাঘ আর মানুষের মধ্যে চলছে লুকোচুরি ‘খেলা’। এই ‘খেলা’য় বাঘ ক্রমাগত ‘ধাপ্পা’ দিয়ে পালাচ্ছে বনদফতরের কর্মীদের৷ যে কারণে, ড্রোন এনে বাঘকে খুঁজে বের করার কাজেও সফল হয়নি এখনও বন দফতর৷

‘লুকা ছুপি বহুত হুয়ি, সামনে আজা না…’। রং দে বাসন্তি সিনেমার বিখ্যাত এই গানই যেন ব্যাঘ্র অভিযানের ক্ষেত্রে প্রতীকী হয়ে উঠেছে। বাঘ বাবাজিকে খুঁজে হয়রান বনকর্মীরা। ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

আরও পড়ুন: ড্রোন উড়িয়ে জঙ্গলমহলে বাঘের খোঁজে তল্লাশি

কিন্তু বাঘের দেখা নেই। মিলছে একমাত্র বাঘের পায়ের ছাপ। বাঘকে আকাশ পথে ক্যামেরাবন্দি করে ধরবার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ড্রোন। তাতেও কোনও কাজ দিল না এখনও। ড্রোনও এখনো পর্যন্ত শুধুই বাঘের পায়ের ছাপের খোঁজই দিতে পেরেছে।

‘গল্পের’ শুরু কয়েক দিন আগে৷ পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামে নজরে আসতে শুরু করে বাঘের পায়ের ছাপ। বাঘ খুঁজে পেতে আনা হয়েছে ড্রোন। শুরু হয়েছে ড্রোন দিয়ে বাঘ খোঁজার কাজ। কিন্তু, তিন দিন আকাশ-পথে চক্কর কেটেও কোনও বাঘের খোঁজ মেলেনি। ড্রোনের ছবিতেও মিলেছে শুধু বাঘের পায়ের ছাপ। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল আদৌ কি কোনোও বাঘ রয়েছে, না এ সবই ভ্রম?

আরও পড়ুন: হামলা চালিয়েও থমকে গেল বাঘ, বেঁচে ফিরলেন গোয়ালতোড়ের বাসিন্দা

বন দফতর জানিয়েছে, বাঘ রয়েছে ওই জঙ্গলেই। কিন্তু, তা হলে ড্রোন দিয়েও কেন পাওয়া গেল না বাঘের নাকাল? বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, “এই জঙ্গলটা অনেক বড়। বাঘের একটা সহজাত প্রবৃত্তি হল, ওরা এক জায়গায় অনেক দিন একভাবে বসে থাকতে পারে।” বর্তমানে ওই জঙ্গলে রয়েছে ৪৭টি হাতির দল। বনমন্ত্রী বলেন, “এই কারণেই বাঘ হয়তো কোনও একটি স্থানে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘বাঘ নড়াচড়া করেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। ওই পায়ের ছাপ তারই প্রমাণ।’’

আরও পড়ুন: এ কি বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা?

কিন্তু, হাতি থাকায় বন দফতরের ধারণা, কোনও একটি ঝোপে ওই বাঘ বসে রয়েছে। যার ফলে ড্রোন দিয়েও বাঘকে দেখা যাচ্ছে না। কারণ অনেক উপর থেকে ড্রোন ছবি তুললেও কোনও ঝোপ ঝাড়ের মধ্য থেকে বাঘের ছবি বার করে আনা সম্ভব নয়। অপেক্ষা এখন হাতির পালের বিদায় হওয়ার জন্য।

আরও পড়ুন: এবার বাঘ মামার আতঙ্ক বাঁকুড়ায়