ফাইল চিত্র৷

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ফের দেখা দিল বাঘ! এ বার মধুপুরের জঙ্গলে। বন দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে এই খবর।

গত এক, দু’ সপ্তাহে বাঘের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। জাল ছিঁড়ে বেড়িয়ে যাওয়ার পর থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল মেদিনীপুরের জঙ্গলে ভয় ধরানো সেই বাঘ। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার তার ‘খোঁজ’ পেলেন বন দফতরের কর্মীরা। তবে স্বচক্ষে নয়। বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ মিলল পায়ের ছাপে।

লালগড়ের জঙ্গলে মাস দেড়েক ধরে কার্যত রাজত্ব চালাচ্ছে বাঘ। টোপ হিসাবে ছাগল, শুয়োর ব্যবহারেও কোনও কাজ দেয়নি। বাঘ বাবাজি এক গুরুবারে ধরা দিয়েছিল, তাও সে স্থানীয়দের জালে। জাল ছিঁড়ে সহজেই পালিয়েছিল সে। জাল ছিঁড়ে পালানোর পর থেকে বাঘের খবর না মেলায় ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। কিন্তু মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা বলেন, “বাঘ হারিয়ে যায়নি। পালানোর পর বাঘ প্রথমে আশ্রয় নিয়েছিল রামগড়ের জঙ্গলে। সেখান থেকে কিছুদিন আমরা ওর খোঁজ পাইনি। এখন আবার বাঘ আমাদের ট্র্যাকের মধ্যে এসেছে। এখন লালগড়েরই আর একটা জঙ্গল মধুপুরে রয়েছে।”

মঙ্গলবার রবিকান্ত সিনহা বলেন, “আমাদের টিম এই বাঘের পিছনে বহু দিন ধরে খাটছে। একবার চোখের আড়াল হয়েছে বলেই যে একেবারেই হারিয়ে যাবে এমন হওয়া সম্ভব নয়। আজ সকালেই বনের মধ্যে বাঘের পায়ের ছাপ পেয়েছি।” তবে কি এ বার বাঘ ধরা পড়বে? মুখ্য বনপাল বলেন, “ আমরা নিজেদের সেরাটা দিচ্ছি। কিন্তু কবে বাঘ ধরা পড়বে এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।”

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে বন দফতরের বাঘ ধরার জন্য বিশেষ দলের ভূমিকা নিয়ে। রবিকান্ত সিনহা বলেন, “নতুন করে চেষ্টা করার মতো আমাদের হাতে আর কোনও অপশন নেই। সমস্যা হল বাঘ টোপে ধরা দিচ্ছে না কিছুতেই। যেখানে বাঘ থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই টোপ নিয়ে আমাদের টিম হাজির হচ্ছে। কিন্তু ফাঁদে পা দিচ্ছে না বাঘ।” রবিকান্ত সিনহার কথায়, “ফাঁদে পা দিলে বাঘ ধরা দু’ মিনিটের খেল।”

তা হলে আপাতত উপায়? রবিকান্ত সিনহা বলেন, “যেমন ভাবে আমাদের কাজ চলছে তেমন ভাবেই আমাদের কাজ চলবে। সদা সতর্ক আছে সবাই। সাধারণ মানুষকে আমাদের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।”