স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : সারাদিনের জ্বালাপোড়ার মুক্তি মিলবে সন্ধেবেলায়৷ আশার বাণী শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর৷ আজ সন্ধে থেকে রাতের মধ্যে কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদিনের সমস্যা অতিরিক্ত আর্দ্রতা৷ যা থেকে কিছুটা হলেও রেহাই মিলবে আজ রাতে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস৷

এতদিন শহরের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছিল ৩৪ ডিগ্রির নীচে। যা স্বাভাবিকের থেকে কম ছিল। কিন্তু পয়লা বৈশাখ থেকেই হাঁসফাঁস অবস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে কলকাতার। মঙ্গলবার সকালে শহরের সর্বোচ্চ ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। সর্বনিম্ন ২৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়া যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি বেশি। আর্দ্রতার পরিমান সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৫৮ শতাংশ।

বাতাসে পশ্চিম ও দক্ষিণ – পশ্চিমী বাতাসের প্রভাব রয়েছে ফলে প্রচুর আর্দ্র হাওয়া শহরে প্রবেশ করছে সমুদ্র থেকে ফলে ঘামে হাঁসফাঁস অবস্থা হচ্ছে শহরবাসীর। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকেই আজ মুক্তি মিলতে পারে।

গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার কলকাতার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়া যা স্বাভাবিক।

শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন ২৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়া যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি। এদিন আর্দ্রতার পরিমান সর্বোচ্চ ৯৩ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৫৮ শতাংশ। এই আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার দিকে লক্ষ্য রাখলে দেখা যাবে গরম বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে।

শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই এক ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন ২৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়া যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি।

রবিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। সর্বনিম্ন ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়া যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি। এখান থেকে সর্বোচ্চ তাপামাত্রা নামেনি, উলটে বেড়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ফলে সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন তাপাত্রার ফারাক কমে গরম অনুভূত হয়েছে বেশি।

হাওয়া অফিস অনেক আগেই জানিয়েছে গরম যেমন বাড়বে সঙ্গে বৃষ্টিও হতে পারে। ফলে ‘হিট ওয়েভ’ বা ‘লু’ বওয়ার সম্ভাবনা কলকাতায় কম। সারা রাজ্যেও এই বছর তুলনামূলক কম গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছিল হাওয়া অফিস।

এদিকে দিল্লির মৌসম ভবন দেশবাসীর জন্য সুখবর দিয়েছে সোমবারে। জানানো হয়েছে বর্ষার পরিমান এই বছর স্বাভাবিই থাকবে। বৃষ্টি হবে ৯৬ থেকে ১০৪ শতাংশ , যা আবহবিদদের অঙ্কের নিরিখে স্বাভাবিক।