স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: একেই বলে উচিৎ শিক্ষা! ভরসন্ধেয় কিশোরীর ইভটিজিং করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কিশোরীর হাতেই উত্তম মধ্যম খেল তিন পড়ুয়া৷ চিল চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয় মানুষ৷ পুরো ঘটনা শোনার পর তাঁরাও ওই তিন অভিযুক্তকে গণপ্রহার দেন৷ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত তিন পড়ুয়াকে আটক করেছে৷ ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের সাঁইথিয়া থানা এলাকায়৷ সকলেই ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ৷ বস্তুত, আজ থেকেই শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁইথিয়া শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্রী পাড়াতে বাড়ি অনন্যা সিংহরায়ের (নাম পরিবর্তিত)৷ সাঁইথিয়া গালর্স স্কুলে এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ হাতঘরির ব্যাটারি কিনতে স্থানীয় ধর্মরাজ তোলাপাড়াতে যায়৷ অভিযোগ, সেই সময় তিন কিশোর প্রথমে তাঁকে কটুক্তি করে৷

পরে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে তারা অনন্যার হাত ধরে টানাটানি শুরু করে৷ অনন্যা বলে, ‘‘ওরা ভেবেছিল- যা খুশি করবে৷ জানতো না যে আমি ক্যারাটে প্রশিক্ষিত৷ প্রথমে ভালোভাবে বারণ করা সত্বেও ওরা শোনেনি৷ ওরা অশালীন আচরণ করছে দেখে আত্মরক্ষার্থেই আমি পালটা মারধর শুরু করি৷’’

গোলমালের আওয়াজ পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয়রা৷ ততক্ষণে কিশোরীর মারে তিন তরুণেরই কাহিল হাল৷ পুরো ঘটনা শোনার পর স্থানীয়রা ফের আরেক দফা উত্তম মধ্যম দেয় তাদের৷ খবর পেয়ে পুলিশ এসে অভিযুক্তদের আটক করে নিয়ে যায়৷ ওই ছাত্রীর মা সুলেখা সিংহরায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ আটক অমিত সাহানি, দ্বীপ মণ্ডল ও ভাস্কর মণ্ডলকে জিজ্ঞাসা করছেন তদন্তকারীরা৷