স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় চন্দ্রকোনার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় জয় শ্রীরাম স্লোগান দেয় কয়েকজন৷ কনভয় থেকে নেমে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের বলেন, ‘‘‘পালাচ্ছিস কেন, আয় আয়৷ পালিচ্ছিস কেন? হরিদাস সব৷’’

মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় চলে যাওয়ার পর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়ার জন্য সীতারাম মিদ্দা, সায়ন মিদ্দা ও বুদ্ধদেব দোলুইকে গ্রেফতার করে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ৷ বিষয়টি নিয়ে কলকাতা২৪x৭-কে চন্দ্রকোনা থানা থেকে জানানো হয়েছে, শনিবারই কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷

শনিবার সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ তাতে দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারে চন্দ্রকোনার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেন কিছু সাধারণ গ্রামবাসী৷ আর তাতেই চটে গিয়ে গিয়ে কনভয় থামিয়ে রাস্তায় নেমে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাকে গালাগাল দিচ্ছে! সাহস থাকলে সামনে আয়৷

এই ভিডিওটি সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়াতে মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন আচরণের সমালোচনা শুরু হয়৷ অনেকেই নিজের ওয়ালে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইটার অ্যাকাউন্ট এবং ফেসবুক পেজে গিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ লেখেন৷ প্রচুর মানুষ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘তাহলে কী এবার থেকে বাংলাতে জয় শ্রীরাম বলা নিষিদ্ধ হল?’’

বিজেপির নেতারা নিজেদের স্যোশাল মিডিয়া পেজে ওই ভিডিও শেয়ার করেন৷ লিখে দেন নানান মন্তব্য৷ ফেসবুক এবং হোয়াটস্ অ্যাপের মাধ্যমে আম জনতার কাছে পৌছে যায় ওই ভিডিও৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গ শাখার তরফ থেকে এক মুখপাত্র সাফ জানান, এই কাজ একজন মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না৷ উনি কেনও কাজই ঠিক করে করে উঠতে পারছেন না৷ তাই হতাশা বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷

ভিএইচপি নেতা সচিনন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, ‘‘ভিডিওটিতে দেখলাম ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান শুনে গাড়ি থামিয়ে রাস্তায় নেমে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন আমাকে গালিগালাজ করেছে৷ হিন্দুদের রাষ্ট্রীয় মহাপুরুষ শ্রী রামচন্দ্র৷ যার উপর আপামর হিন্দুদের আস্থা রয়েছে৷ বাংলার ঘরে ঘরে যিনি পূজিত হন সেই রামের নাম নেওয়াকে উনি গালাগালি বলছেন? এতে বাংলার হিন্দুরা অবশ্যই অপমানিত বোধ করবেন৷ ওঁর এজন্য বাংলার হিন্দুদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ৷’ স্লোগান দিয়ে গ্রেফতার হওয়া তিনজনের দ্রুত এবং নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছিলেন সচিন্দ্রনাথ৷

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে রামের সঙ্গে হিন্দুদের ধর্ম বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে৷ তাই ভোটের মাঝে হিন্দুদের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করে ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে চাইছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো৷ তাই গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পরই জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তিনজনকে৷