মুম্বই- মুম্বইয়ের ওয়োকহার্ডট হাসপাতালের দুই নার্সের শরীরেও এবার পাওয়া গেল পজিটিভ কোভিড ১৯। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে এমনই জানা যাচ্ছে। এই দুই নার্সের মধ্যে একজন নারী ও অন্যজন পুরুষ। জানা যাচ্ছে ৭০ বছর বয়সী এক করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁরা। সেই রোগীর অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয় ওই হাসপাতালে। প্রথমে কোভিড ১৯-এর উপসর্গ দেখা না গেলেও পরে তাঁর রিপোর্টে পজিটিভ আসে।

হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডক্টক পরাগ রিন্দানি জানান, কোভিড ১৯ পজিটিভ তাঁদের শরীরে পাওয়া গেলেও এখন তাঁরা ভালো আছেন। আশা করা যাচ্ছে খুব শীগগিরি তাঁদের পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্ট আসবে। মুম্বইয়ের আর এক হাসপাতাল জসলোক হাসপাতালেও এক নার্স কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি যেই রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁর কোনও কোভিড ১৯-এর উপসর্গ ছিল না।

এমনকি তাঁদের বিদেশ ভ্রমণেরও কোনও রেকর্ড নেই। প্রথমে জ্বর আসে এরপর শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়। তাঁরা অসুস্থ অবস্থাতেই অনেকের সেবা-শশ্রুসার কাজে যুক্ত ছিল বলে জানা যাচ্ছে। ফলে অনেকের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও ইতিমধ্যে তাঁরা তাঁদের সংস্পর্শে এসেছে সেই বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তাঁদের হোম কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। মুম্বইয়ের ওয়োরলি কোলিওয়াড়া এলাকায় ৮ জনের শরীরে কোভিড ১৯ ধরা পড়েছে। তাঁদের সংস্পর্শে আসার দরুণ ৩৬ জনকেও সম্ভাব্য আক্রান্তদের মধ্যে ধরা হচ্ছে।

এই ৮ জন যেখানে যেখানে গিয়েছিলেন সেগুলিকে ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে- ১) এপিসেন্টার ক্লাস্টার। অর্থাৎ যাকে একেবারে উপকেন্দ্র মনে করা হচ্ছে বা যেখানে আক্রান্ত খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ২) হাই রিস্ক কনট্যাক্টস। অর্থাৎ যাঁদের সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। ৩) কনটেনমেন্ট জোন। অর্থাৎ যে জায়গা তুলনামূলক ভাবে নিয়ন্ত্রিত। ৪) বাফার জোন বা নিরাপদ অঞ্চল।

এই অনুযায়ী একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধভ ঠাকরে মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ফ্লাইং স্কোয়াডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা মুম্বইয়ের ২২৭টি পুরসভা অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খতিয়ে দেখবে। মুম্বইয়ের ঘন জনবসতির কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কারণ এখানে একবার কমিউনিটি স্প্রেড শুরু হলে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠবে।