ভুবনেশ্বর: সীমান্ত জুড়ে অশান্তি চরম মাত্রায় পৌঁছেছে গত কয়েকমাসে। ভারত-পাক সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। উরি হামলা, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক আর প্রতিনিয়ত পাক সেনার গুলি- সব মিলিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রীতিমত যুদ্ধ পরিস্থিতি। আর তার মধ্যেই পরপর তিনটি নিউক্লিয়ার মিসাইলের সফল পরীক্ষা করল ভারত। ওড়িশা উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ হয় এইসব মিসাইল।

ভারতের পরীক্ষা করা এই তিনটি মিসাইল হল অগ্নি-১, পৃথ্বী-২ ও AAD  ইন্টারসেপ্টর। এর মধ্যে পৃথ্বীর রেঞ্জ ৩৫০ কিলোমিটার, অগ্নির রেঞ্জ ৭০০ কিলোমিটার। আর তৃতীয়টির শত্রুপক্ষের মিসাইলকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে। সোমবার কমপ্লেক্স-৩ থেকে লঞ্চ করা হয় পৃথ্বী-২। মঙ্গলবার আব্দুল কালাম আইল্যান্ডের LC-IV থেকে পাঠানো হয় AAD  ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ও বুধবার পাঠানো হয় অগ্নি-১।

এই নিয়ে ১২ বার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সফল পরীক্ষা করল ভারত। টার্গেট মিসাইলকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম এই মিসাইল। উচ্চগতিসম্পন্ন এই মিসাইল পরীক্ষা করা হয় বঙ্গোপসাগরের উপর।

৫০০ থেকে ১০০০ কেজি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম পৃথ্বী-২। সোমবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে জোড়া মিসাইল উৎক্ষেপণ করা হয়। ২০০৩-এ ভারতের অস্ত্রাগারে জায়গা করে নেয় পৃথ্বী-২। এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটার। এটি ডিআরডিও-র তৈরি প্রথম মিসাইল।

এছাড়া বুধবার ছোঁড়া হয় অগ্নি-১। উন্নতমানের রাডার, টেলিমেট্রি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, ইলেক্ট্রো অপটিক ইনস্ট্রুমেন্টস ও নৌবহরের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির ওপর নজর রাখা হয়, যতক্ষণ না তা লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানে। অত্যন্ত উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম সম্পন্ন অগ্নি ওয়ান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যতে পৌঁছতে পারে। ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এটি। ১২ টন ওজনের ১৫ মিটার লম্বা এই ক্ষেপণাস্ত্র ১ টনের বেশি ওজন বহন করতে সক্ষম। কিন্তু ওজন কমালে আরও দূর যেতে পারে। আর সেই কারণেই এই মিসাইল নিয়ে আরও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। আর কীভাবে এই মিসাইলকে হাল্কাভাবে তৈরি করা যায় তা নিয়েই কাজ করে চলেছেন ডিআরডিও।