স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: তীব্র অর্থকষ্ট এবং রোগ ভোগ। অসহায় পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন বারাসতের এক পরিবার। স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন জানালেন একই পরিবারের তিনজন। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের।

অনাহার আর সেই সঙ্গে পথ্যহীন জীবন যাপন। জীবন ক্রমশ মন্থর হয়ে আসে। তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি চেয়েও আটকানো যায় না। জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছেন সঙ্গীত শিল্পী গার্গী ব্যানার্জী। তাই অসুস্থতার নাগপাশ থেকে বেরিয়ে বাঁচার পথ দেখান, নয়তো স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর করুন। সরকারের কাছে এমন আবেদনই জানালেন গার্গী ও তার পরিবারের বাকি দুই সদস্য।

উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসতের বাণী নিকেতন রোডের এক চিলতে ফ্ল্যাটে নিজের বাবা ও মাকে নিয়ে থাকেন গার্গী দেবী। দারিদ্র এমনভাবেই গ্রাস করেছে করেছে পরিবারকে যে পরিবারটি স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কাছে। চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা শাসক চৈতালী চক্রবর্তী এবং বারাসত পৌরসভার পৌর প্রধান সহ প্রসাশনিক আধিকারিকদের কাছে।

এক ফোঁটা পথ্য তো ছাড় এক কনা অন্নও জুটছে না তিন সদস্যের পরিবারের। অধিকাংশ দিন লোকের কাছে ভিক্ষা বৃত্তি করে কোনরকমে দিন চলছে তাদের। এইভাবে চলতে চলতে জীবনের লড়াইয়ে হার মেনে শেষ ভরসা হিসেবে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তাঁরা।

এক সময়ের সম্ভ্রান্ত পরিবার হিসেবেই পরিচিতি ছিল গার্গীর পরিবারের। বছর পঞ্চাশের গার্গীর সঙ্গে এখন থাকেন রুগ্ন বাবা-মা। বাবা কমল ব্যানার্জির বয়স ৮২ বছর ও মা গীতা ব্যানার্জির বয়স ৭৬ বছর। পথ্য তো দূর গত কয়েক বছর ধরে দুমুঠো ভাত জোটে না তিনজনের। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতক ও সংগীতে পিএইচডি গার্গী দেবী।

একটি স্বেচ্ছা সেবী সংস্থা পাশে দাঁড়ালেও আত্মসম্মানের স্বার্থে আর হাত পাততে রাজি নন ব্যানার্জী পরিবার। বারাসত পৌরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখার্জি খোদ আশ্বাস দেওয়ার পরেও কোন সুরাহা না হওয়ায় শেষমেশ অন্তিম এই পদক্ষেপেই অবিচল থাকতে চান ব্যানার্জী পরিবার।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।