চেন্নাই : গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ৩ সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করল তামিলনাড়ু পুলিশ৷ তামিলনাড়ু পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টর একটি রিপোর্ট দেন৷ সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই শুরু হয় তল্লাশি৷ জানা যায় নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় স্থানে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে ৩ সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গি৷

কোয়েম্বাটোরে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ৷ ধরা পড়ে তিন অভিযুক্ত৷ মহম্মদ হোসেন, শাহাজান ও শেখ সাইফুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়৷ এরাই মন্দিরে হামলার ছক কষেছিল বলে সূত্রের খবর৷ এদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর৷

আরও পড়ুন : অনন্তনাগে সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াইয়ে আহত আর্মি মেজর, খতম জঙ্গি

জানা গিয়েছে, এই তিন ব্যক্তি কোয়েম্বাটোর জুড়ে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে আইএসের ভাবধারার কথা লেখা লিফলেট বিলি করেছে৷ আইএসের ভাবধারা তামিলে অনুবাদ করে তৈরি করা হয়েছে এই লিফলেট৷ লিফলেটে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত জাহরান হাসিমের প্রশংসা করা হয়েছে৷

কোয়েম্বাটোরের সাতটি জায়গায় এর আগে তল্লাশি চালায় এনআইএ৷ এদিন সেই তল্লাশির সূত্র ধরে তামিলনাড়ুর পুলিশও তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে এই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে৷ এর আগে, তামিলনাড়ু জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে আইএসের লিংক বলে জানিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ৷ তামিলনাড়ুর ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলে৷ ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৮জনকে গ্রেফতারও করে এনআইএ৷

চলতি বছরের ৮ই জানুয়ারি তিনটি জেলার ৮জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়৷ পুলিশ জানিয়েছিল, এদের বিরুদ্ধে আইএসের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে৷ তাদের এনআইএর হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ জিজ্ঞাসাবাদের মারফত কয়েকটি জায়গার উল্লেখ করে তারা৷

আরও পড়ুন : পাকিস্তানে নতুন আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদ

জেরায় জানা যায় ভারতের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে তারা৷ এদের মধ্যে রয়েছে শেখ দাউদ, মহম্মদ রিয়াজ, সাদিক, মুবারিস আহমেদ, রিজওয়ান, হামিদ আকবার, সালেম ও চিদাম্বরম৷ এদিকে, বছরের শুরুতে আইএস যোগ সন্দেহে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল এনআইএ৷ লুকিয়ে থাকা আইএসআইএস জঙ্গি ধরতে ফের অভিযান শুরু করেন গোয়েন্দারা৷ উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবের সাতটি জায়গায় তল্লাশিতে নামেন এনআইএ’র গোয়েন্দারা৷

এনআইএ দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ মিলিয়ে মোট ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালায়৷ জঙ্গি দমন শাখা, রাজ্য পুলিশ ও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অফিসারদের নিয়ে এই ১৬টি জায়গায় হানা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা৷ সূত্রের খবর, অনেকদিন ধরেই এই মডিউলের কাজকর্মের উপর নজর ছিল এনআইএ’র৷ এই ১৬টি জায়গা থেকে প্রচুর অস্ত্র, তলোয়ার, বিস্ফোরক, গ্রেনেড ও পিস্তল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ গ্রেফতার করা হয় ১০ জঙ্গিকে৷