ইম্ফল: শুক্রবার ঘড়িতে তখন সন্ধ্যে প্রায় ছটা৷ হঠাতই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা৷ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়লেন তিন নিরাপত্তারক্ষী৷ ছুটে এলেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ দেখা গিয়েছে মণিপুরের বিধানসভা চত্ত্বরের মধ্যেই সশব্দে ফেটেছে একটি গ্রেনেড৷

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান বিধানসভা চত্ত্বরের বাইরে থেকে কেউ বা কারা ওই গ্রেনেড ছুঁড়েছে বিধানসভা লক্ষ্য করে৷ তবে সেটি বেশি দূরে না গিয়ে চত্ত্বরেই ফেটে যায়৷ গুরুতর আহত হয়েছেন তিন নিরাপত্তারক্ষী৷ এর মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মী ও একজন বিএসএফ জওয়ান বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মণিপুর পুলিসের ডিজিপি এলএম খাউতে৷

হামলার নেপথ্যে রয়েছে ‘ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট’ (ইউএনএলএফ) নামের মণিপুরী জঙ্গিগোষ্ঠী, এমনই ধারণা মণিপুর পুলিশের৷ এর আগে, অক্টোবর মাসেও সিআরপিএফের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়েছিল ইউএনএলএফ জঙ্গিরা৷ ফলে বিধানসভায় হামলার নেপথ্যে তাদের হাতও থাকতে পারে৷

আরও পড়ুন : জম্মু কাশ্মীরের পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে স্তব্ধ উপত্যকা

মণিপুর বিধানসভা ঘিরে কড়া নিরাপত্তার বলয় থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনা কী করে ঘটল, তা ভেবে পাচ্ছেন না তদন্তকারী আধিকারিকরা৷ এরই পাশাপাশি, মণিপুরে শুরু হতে চলেছে বিখ্যাত সানগাই উৎসব৷ সেই উৎসবের জন্যও নিরাপত্তার কড়াকড়ি রয়েছে রাজ্যে, বিশেষত বিধানসভা ঘিরে৷ তা হলে কি বজ্র আটুণনি ফস্কা গেরো? এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

পুলিশ জানিয়েছে সন্ধে ৫.৫৫ নাগাদ বিস্ফোরণটি হয়৷ বিধানসভার পশ্চিম দিকের দেওয়াল থেকে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়েছিল৷ প্রসঙ্গত গোটা বিধানসভা চত্ত্বর মণিপুর পুলিশ ও বিএসএফের ৫৪ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ানরা ঘিরে রেখেছে৷ তবে এখনও পর্যন্ত ঘটনার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন৷

তিন আহত নিরাপত্তাকর্মীর পরিচয় জানা গিয়েছে৷ এদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মী হলেন মাইবাম মনোরঞ্জন, ইয়ামবেম জনি৷ তৃতীয় জন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা বিএসএফ জওয়ান আর পি মিশ্র৷ এঁদের প্রত্যেককেই হাসপাতালে ভরতি করা হয়৷ তবে এঁরা বিপদ্মুক্ত বলে জানানো হয়েছে৷