স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তিনজন চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল হল করল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল৷ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হল৷ এই চিকিৎসকরা হল বৈশালি শ্রীবাস্তব, সঞ্জয় তিওয়ারি এবং মহেশ গোয়েঙ্কা৷ এরা প্রত্যেকে অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক৷

কয়েক বছর আগে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে৷ যা নিয়ে তোলপার হয়েছিল রাজ্য৷ সেই সময় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে মামলা দায়ের করেছিল পরিবার৷ সূত্রের খবর,এই মামলায় মেডিক্যাল কাউন্সিল তিনজন চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করল৷ ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে৷ এরা অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক৷ তিন মাসের জন্য তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে৷ যদিও চিকিৎসকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷ প্রতিক্রিয়া মিলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও৷

২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল অ্যাপোলো হাসপাতালের বিরুদ্ধে৷ চার মাসের একটি শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে ধুন্ধুমার কলকাতার বেসরকারি ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে৷ মৃত শিশু নাম কুহেলি চক্রবর্তী৷ ঠাকুরপুকুরের এই শিশু হাসপাতালের ভেন্টিলেশনেই মারা যায়৷ এরপরই হাসপাতাল জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ৷ ফুলবাগান থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে৷

কুহেলির পরিবার সেই সময় জানিয়েছিল,মলত্যাগের সময় রক্ত বেরোনোর ফলে কুহেলিকে তার পরিবারের লোকেরা গত ২০১৭ সালের ১৪এপ্রিল জোকা ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করে৷ কিন্তু কোলনস্কোপি করার জন্য সেই মাসেরই ১৫এপ্রিল কুহেলিকে অ্যাপোলো হাসপাতালে রেফার করা হয়৷ কারণ ইএসআই হাসপাতালের সঙ্গে অ্যাপোলো হাসপাতালের টাই আপ রয়েছে৷

পরিবারের তরফে অভিযোগ জানানো হয়, কোলনস্কোপি করার জন্য তাকে নিয়ে আসা হলেও দু’দিন তাকে এমনিই হাসপাতালের বেডে ফেলে রাখা হয়৷ গত ১৭ মার্চ টেস্ট করানো হবে বলেও ১২ঘন্টা কুহেলিকে কিছু না খাইয়ে ফেলে রাখা হয়৷ কিন্তু তারপরেও তার কোনও টেস্ট করানো হয়নি৷ এরপর আবারও টেস্ট করানোর নামে তাকে অজ্ঞান করা হয়৷ হাইডোজের অ্যানাস্থেসিয়া দিয়ে তাকে অজ্ঞান করা হয়৷ এরপরই আসতে আসতে তার শরীরের অবস্থা খারাপ হতে থাকে৷ এমনকি সেই ঘটনাটির পর কুহেলির আর জ্ঞান ফেরেনি বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর৷ এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকলে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়৷ কিন্তু তারপরও কুহেলির পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি৷ শেষে শিশুটি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে৷

এই ঘটনার পরই কুহেলির পরিবার বিক্ষোভে ফেটে পরে৷ হাসপাতালের মেন বিল্ডিংয়ের সামনের দরজাসহ বেশ কিছু অংশ ভাঙচুর করা হয়৷ ফুলবাগান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হন৷ এরপর লালবাজার থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে৷ বৈশালি শ্রীবাস্তব, সঞ্জয় তিওয়ারি এবং মহেশ গোয়েঙ্কা এই তিন চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করে কুহেলির পরিবারের লোকজন৷ পরে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলেও অভিযোগ করা হয়৷