স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাঘ সহসা বাধ্য না হলে খাঁচার মতো আবদ্ধ জায়গায় ঢুকতে সাহস করে না৷ সচিনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হল না৷ শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বন দফতরের পাতা ফাঁদে পা দিল সচিন৷ বন দফতরের পেতে রাখা খাঁচার মধ্যে পাওয়া গেল তাকে৷ তিন দিন ধরে এদিক ওদিক ঘুরে খাবার না পেয়ে, খাবারের লোভেই খাঁচায় ঢোকে চিতা বাঘটি৷ তখনই খাঁচাবন্দি হয় সচিন৷ অবশেষে শুক্রবার বিকালে তার খোঁজ মিলল৷

বন দফতর সূত্রে খবর, শিলিগুড়ির কাছে বেঙ্গল সাফারি পার্ক থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় শচীন নামে চিতা বাঘটি৷ সে দিন থেকেই পার্ক কর্তৃপক্ষের ধারনা ছিল শচীন বেশি দূর যেতে পারবে না৷ কারণ কিছুটা অসুস্থ ছিল চিতা৷ এছাড়া তার আস্থানার বাইরে তেমন খাবারও পাবে না৷ এমনকী শিকার ধরে খাওয়ারও তার অভ্যাস নেই৷ তাই প্রথম দিন থেকেই প্রায় ২০ হেক্টর পার্কের মধ্যে ১০ টি খাঁচা পেতে রাখা হয়৷ এবং তার ভিতরে রাখা ছিল শচীনের প্রিয় খাবার মাংস৷ অবশেষে সেই খাবারের লোভেই খাঁচাবন্দি হল শচীন৷

ঘটনার পর থেকেই শচীনের খোঁজ শুরু হয়৷ কুনকি হাতি এবং ফাঁদ পেতেও খোঁজ মেলেনি চিতা বাঘটির। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়৷ ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে তার খোঁজ শুরু করা হয়৷ তাতেও সচিনের খোঁজ মেলেনি৷ বনদফতর আশাবাদী সাফারি পার্কের সুউচ্চ দেওয়াল টপকে পালিয়ে যায়নি ওই বাঘটি। তাই আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি পেতে রাখা হয়েছিল ১০টি খাঁচাও৷ শুক্রবার তারই একটি খাঁচায় পাওয়া গেল সচিনকে৷

রাজ্যে বন্যপ্রাণীর হঠাৎ আগমন বাঁ সুনির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। লালগড়ের বাঘ আতঙ্ক এর মধ্যে সবথেকে বড় ঘটনা। সেটিকেও অনেকভাবে ধরবার চেষ্টা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছিল মৃত বাঘকে। এবার সচিনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেলেও তার একটি চোখের কাছে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে৷