সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিন ধাম। একটি নাম। সবই সত্য সত্যের নামে। এমনই ভাবনা তিনটি ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তাদের। তারা সত্যজিত রায়ের অপু ট্রিলজিকে তাঁদের এবারের থিম বানাচ্ছেন বলে জানিয়ে দিলেন। এমন সময়ে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্লাব তাঁদের থিমের কথা বলেনি। কিন্তু একসঙ্গে বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, ৬৬ পল্লি এবং কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট জানালেন তারা তাঁদের মণ্ডপ সাজাচ্ছেন সত্যজিত রায়ের অপুর ট্রিলজির রূপে। তিন ক্লাবের এক থিমের একত্রে নাম ‘ভূতের রাজা দিল বর’।

শহরের দক্ষিনপ্রান্তের প্রাণকেন্দ্রে বিখ্যাত তিনটি দুর্গাপুজো, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, ৬৬ পল্লি এবং কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট। এবার তারা সত্যজিতের স্মরনাপন্ন। এবার তাঁরা কোনও লড়াইয়ে না গিয়ে একসঙ্গে মিলে একই থিমে পুজো করছে। বিষয় সত্যজিত রায়ের শতবর্ষ। তিন ক্লাবের তৈরি করবে ‘অপু ট্রিলজি’। গোটা বিষয়টির নেপথ্যে অবশ্য রয়েছেন আইএফএসডি-র কর্ণধার মৃদুল পাঠক। রাসবিহারী থেকে চেতলার দিকে যেতে পর পর শহরের তিন বহুল চর্চিত পুজো। বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, ৬৬ পল্লি এবং কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট। একই রাস্তার ওপর পরপর তিনটি ক্লাব এই প্রথমবার একই থিমে মণ্ডপ গড়বে। বাদামতলা আষাঢ় সংঘে দেখা যাবে ‘পথের পাঁচালী’, ৬৬ পল্লীতে ‘অপরাজিত’ এবং কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটে ‘অপুর সংসার’। তিন ক্লাবেই এবারে প্রতিমা দর্শন করতে হলে আপনাকে গাড়ি থেকে নামতে হবে না, যা একেবারে অভিনব। উদ্যোক্তারা অবশ্য পোশাকি নাম দিয়েছেন ‘Drive In দর্শন’। তবে হঠাৎ কেন এই উদ্যোগ? বাদামতলা আষাঢ় সংঘের অন্যতম উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন লকডাউনে পুজো নিয়ে ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছিল বাকি দুই ক্লাবের সঙ্গে। সেখানে এই ভাবনা উঠে আসে। ঠিক হয় সত্যজিৎ রায়ের স্মরণে তিনটি ক্লাবের পুজো একসঙ্গে হবে। কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যেই শুরুও হয়ে হয়েছে।

বাদামতলার এবারের থিম মেকার স্নেহাশিস মাইতি। ৬৬ পল্লির উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, সত্যজিৎ রায় স্মরণ তো রয়েছেই, পাশাপাশি করোনা আবহে বাজেট অনেকটা কমানোর প্রয়োজন ছিল। সব মিলিয়েই এই ভাবনা। কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটে দেখা যাবে ট্রিলজির শেষ খণ্ড ‘অপুর সংসার’। ক্লাবের উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, করোনা আবহে সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করাই লক্ষ্য। তাই এবারের এই ভাবনা। কালীঘাটের এই ক্লাবের থিম গড়বেন ক্লাবের সভ্যবৃন্দরা।

পথের পাঁচালি সত্যজিৎ রায়ের প্রথম ছবি। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত পথের পাঁচালি উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি করা হয়। ছবির মুখ্য চরিত্র অপু এক সদ্য-কিশোর; মানুষ ও প্রকৃতির পাঠশালায় পাঠ নিতে নিতে সে বড় হওয়া এবং তার জীবন সংগ্রামকে এখানে দেখানো হয়। ছবিতে সত্যজিৎ এক নিম্নবিত্ত, গ্রাম্য, বাঙালী ব্রাহ্মণ পরিবারের দিনলিপি তুলে ধরেন ছায়াছবির ভাষায়। ছবিটিতে বালক অপুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়, কিশোরী দুর্গার চরিত্রে ঊমা দাশগুপ্ত, অপুর বাবার হরিহরের চরিত্রে কানু বন্দ্যোপাধ্যায়, মা সর্বজয়ার চরিত্রে করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্দির ঠাকরুন চরিত্রে চুনিবালা দেবী। পরাজিত সত্যজিৎ রায় পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র অপু ত্রয়ীর দ্বিতীয় পর্ব। অপুর সংসার সত্যজিৎ রায়ের অপু ত্রয়ীর শেষ পর্ব। এই ছবিতেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং শর্মিলা ঠাকুর অভিনয় করেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও