তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: দলের বিধায়কের আচরণে বীতশ্রদ্ধ হয়ে দল ছাড়ার হুমকি দিলেন বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাংশের তৃণমূল নেতা-কর্মী। এমনকি রানীবাঁধের ওই তৃণমূল বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডির বিরুদ্ধে খাতড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা করলেন তারা।

খবরে প্রকাশ, রানীবাঁধ ব্লক তৃণমূল যুব কার্যকরী সভাপতি সমীর হাঁসদা শনিবার তার কাকিমার প্রয়োজনে তার আবাসিক শংসাপত্র আনতে বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডির কাছে যান। বিধায়ক শংসাপত্র না দিয়ে তার সঙ্গে দূর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী রানীবাঁধ ব্লক যুব কার্যকরী সভাপতি সমীর হাঁসদা বলেন, এবিষয়ে দল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা আদিবাসী সমাজের মানুষ তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন।

বিষয়টি নিয়ে খাতড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও জানান।

এলাকার তৃণমূল কর্মী, আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি প্রশান্ত কুমার সরেন বলেন, বিধায়ক আমাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। উনি যেভাবে আমাদের সমাজের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন তা বরদাস্ত করা যায়না। এই ঘটনার পর তারা আর তৃণমূলৃর সঙ্গে থাকবেননা বলেও দাবী করেন।

এবিষয়ে বাঁকুড়া জেলা যুব তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি ও রানীবাঁধ ব্লক এলাকার বাসিন্দা বিদ্যুৎ দাসকে প্রশ্ন করা হলে তার সঙ্গে দলের বিধায়কের কোন যোগাযোগ নেই দাবী করে বলেন, আজই ঘটনাটা শুনলাম।

বিষয়টি জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি। অভিযোগ সত্যি হলে তা যথেষ্ট ‘লজ্জাজনক’ দাবী করে তিনি বলেন, ভোটের সময় ‘গলা ফাটিয়ে’ প্রচার করে ওনাকে জিতিয়েছি। চেয়ারে বসার পর আর আমাদের উনি চিনতে পারেননা। এমনকি বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডিকে নিয়ে কোন কথা বলতে তিনি ‘আগ্রহী’ নন বলেও জানান।

এবিষয়ে ‘অভিযুক্ত’ বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি শংসাপত্র না দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার রানীবাঁধ বিধানসভার প্রত্যেক মানুষকে চেনা সম্ভব নয়। কে জীবিত আর কে মৃত আমি কি করে জানবো। সেকারণেই যাঁর জন্য শংসাপত্র নিতে এসেছিলেন তাঁর প্রধানের শংসাপত্র বা ঐ জাতীয় কিছু নিয়ে আসতে বলেছিলাম। তারপরেই এই সব অভিযোগ উঠছে বলে তিনি দাবী করেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ