স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: অধীরের গড়ে জমি আরও শক্ত করল কংগ্রেস৷ শাসক দল তৃণমূল ছেড়ে হাত শিবিরে যোগদান করলেন কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক৷ রাজ্যে যখন তৃণমূলে যোগদানের পালা চলছে, তখন মুর্শিদাবাদের এই উলটো চিত্রে জেলার তৃণমূল পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর কপালে চিন্তার ভাঁজ৷

সারা দেশের পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে শুরু হয়েছে দল বদলের পালা। প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যে দল বদলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি বহরমপুর সহ প্রায় সব ব্লকেই শাসক দল থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। রবিবার দুপুরে বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কাজালয়ে সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে শাসন দল থেকে কংগ্রেসে যোগদান করল বেলডাঙ্গা এস আর এফ কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বহু সদস্য এবং রানীনগর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি, পঞ্চায়েত প্রধান, মালিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সহ বেশ কয়েকজন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য সহ কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক।

এদিন জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে যোগদান পর্বে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সভা থেকে ব্রিগেড সমাবেশ ও রাজ্যের শাসন দলকে তীব্র ভাষায় আক্রমন করেন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন ‘কাল ব্রিগেড হয়ে গেল আর প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দিদি গেলেন দেশ চালাতে, বুয়া গেলেন দেশ চালাতে আর বাবুয়া গেলেন প্রদেশ চালাতে। আমরা এই বুয়া বাবুয়ার এই দুস্বপ্ন আমরা কখনও সফল হতে দেবো না। তৃণমূলের ব্রিগেডের নামে ৪ দিন ধরে কলকাতায় পিকনিক হয়েছে।’

ব্রিগেডে লোক ভরাতে বাড়িতে বাড়িতে টাকা ও মদের বোতল সাথে বাস ভাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও ব্রিগেড সমাবেশ করেছিলেন তখন গরিব মানুষ উপচে পড়েছিল, আর সেদিন সত্যি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মা মাটি মানুষের নেত্রী ছিলেন৷ কিন্তু আজ তিনি লুঠরাজের নেত্রী। তাই আজ তাকে ব্রিগেডে লোক ভরাতে বাড়িতে বাড়িতে টাকা, মদ দিয়ে বাস ভাড়া করতে হয়।’

এদিন কংগ্রেসে যোগদান প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন ‘রিভার সুইং শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তা ব্রিগেড করে বা প্রশাসন দিয়ে থামানো যাবে না। এই যোগদান এই জেলায় চলতে থাকবে। এবং লোকসভা নির্বাচনের আগে এই মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলে কেউ থাকবে না, শুধু কয়েকটা চোর এবং লুটেরা ছাড়া আর জেলার সাধারণ মানুষ থাকবে না। তৃণমূলের প্রতি মানুষের মোহভঙ্গ শুরু হয়েছে এটি পদ্মার ভাঙনের মতো রূপ নেবে। সারা রাজ্যে কি হবে জানি না তবে এই জেলায় তৃণমূল তছনছ হয়ে যাবে। এই জেলার ক্ষত মুখ্যমন্ত্রীকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। এই জেলায় কংগ্রেস একটিও আসনও শাসক দলকে পেতে দেবে না’৷

এদিন যোগদানকারীদের হাতে দলীয় প্রতাকা তুলে দেন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন রানীনগরের বিধায়ক ফিরোজা বেগম সহ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব ও কর্মী সদস্যরা।