মুম্বই: উন্নয়নের জেরে ধ্বংসের পথে প্রকৃতি! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের বুলেট প্রকল্পের কারণে শেষ হতে চলেছে ১৩.৩৬ হেক্টর ম্যানগ্রোভ। যদিও এই প্রকল্পের ফলে পরিবেশের কোনও ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। বিজেপির জোটসঙ্গী শিব সেনার বিধায়ক মনীষা কায়ান্দের প্রশ্নের উত্তরে সোমবার একথা জানান রাজ‍্যের পরিবহন মন্ত্রী দিবাকর রাওতে।

মুম্বই থেকে আমেদাবাদ যাবে বুলেট ট্রেন। তার কারণেই ট্রেনের যাত্রাপথে থাকা ১৩.৩৬ হেক্টর ম্যানগ্রোভ অরণ্য কেটে ফেলা হচ্ছে! এলাকা জুড়ে জন্ম নেওয়া ৫৪ হাজার ম্যানগ্রোভ গাছকে নিঃশেষ করে ফেলা হচ্ছে। পরিবহন মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, “একটি গাছ কাটা হলে সরকার তার পরিবর্তে পাঁচটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বেশি গাছ কাটা পড়বে না। তাছাড়া এর জেরে নভি মুম্বইয়ের কোথাও বন‍্যার কোনও আশঙ্কা নেই। ট্রেন প্রকল্পের পিলারগুলি অনেক উঁচু হবে। এর ফলে পরিবেশের বিশেষ কোনও ক্ষতি হবে না।”

এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের বিধায়ক শরদ রানপাইসের একটি প্রশ্নের জবাবে রাওতে বলেন, “মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের জন্য মোট ১,৩৭৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে গুজরাটে রয়েছে ৭২৪.১৩ হেক্টর ব‍্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি। মহারাষ্ট্রে রয়েছে ২৭০.৬৫ হেক্টর। এর মধ্যে শুধুমাত্র পালঘর জেলাতেই রয়েছে ১৮৮ হেক্টর। ওই এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাঁদের যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সরকার সেই ক্ষতিপূরণ দেবে।”

অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগ, পরিবেশ রক্ষার থেকেও নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নপূরণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ফড়ণবিস সরকার। তাই বুলেট ট্রেন প্রকল্পের জন্য কয়েক হেক্টর ম্যানগ্রোভের অরণ্য ধ্বংস করতেও ভাবছেন না তারা। শুধু ম্যানগ্রোভ অরণ্যই নয়, এই প্রকল্পের ফলে যাত্রাপথের দুধারে থাকা কৃষকদের জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদদের।
পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, এ বার বন্যার জল ঢুকবে মুম্বইতে। এতদিন নভি মুম্বইতে কখনও বন্যা জল ঢোকেনি। তবে একটা বড় অংশ থেকে বিপুল পরিমাণ ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলার ফলে বন্যার জল ঢোকার আশঙ্কা থাকতে পারে।

তাছাড়া ইতিমধ্যেই সারা দেশে জলের জন্য শুরু হয়েছে হাহাকার। খুব তাড়াতাড়িই দেশের একাধিক শহর জলশূন্য হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে খোদ সুপ্রিম কোর্ট। এবছর গ্রীষ্ম শুরুর আগে থেকেই বারবার উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের নাম। সে রাজ্যই এখন সব চেয়ে বেশি জলকষ্টে ভুগছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ফুটিফাটা চাষজমির ছবি। এমন জলসংকটের দিনে খোদ মহারাষ্ট্র থেকেই উঠে এলো এমন ভয়াবহ খবর। যা ভাবাচ্ছে পরিবেশবিদদের।