নিউজ ডেস্ক: বারাকপুর লোকসভার প্রেস্টিজ ফাইটে হেরে গিয়েছে তৃণমূল। সংবাদ মাধ্যমের সামনে চ্যলেঞ্জ করে মুখ পুড়েছে দলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কাজ হয়নি নেত্রীর প্রচারেও। এই বারাকপুর কেন্দ্রে কড়া টক্কর হয়েছিল তৃণমূল এবং বিজেপি প্রার্থীর মধ্যে।

শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তৃণমূলের দুর্দিনের সৈনিক এবং বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থি অর্জুন সিং। ভোটের মুখে দলবদল করে আসা অর্জুনের সাফল্যের পিছনে বড় অবদান ছিল বারাকপুরের বিজেপি কর্মীদের। ওই লোকসভা কেন্দ্রে পদ্ম ফোটানোর পিছনে নিখুঁত অঙ্ক কষেছিলেন বিজেপির বারাকপুর জেলা(সাংগঠনিক) কমিটির বিশেষ দলের সদস্যরা।

১. ফাল্গুনী পাত্র, ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী: নতুন-পুরানো সবাইকে একজোট করে সকলকে স্বাধীনভাবে কাজ দায়িত্ব বন্টন, কর্মীরা কোথাও বিপদে পড়েছেন খবর পেলেই সাথে সাথে সেখানে ছুটে গিয়েছেন। এরজন্য নৈহাটিতে তৃণমূলের দুস্কৃতিরা তার গাড়ী ভাঙচুর ও তাকে মারধর ও মিথ্যা কেসে ফাঁসানো হলেও কোন মতে দমিয়ে রাখতে পারেননি।

২. রঞ্জিত কুমার পাসোয়ান(ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা মিডিয়া সেল কনভেনর): কর্মীরা কেউ কেউ ব্যাঙ্গ করে বলেন। ইনি হলেন বায়ুর মত, চোখে দেখা যায় না কিন্তু একে ছাড়া দলের প্রচার মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া কার্যত অসম্ভব। আবার অনেক বলেন, ইনি ব্যারাকপুরের অজিত ডোভাল, জেলার বা আশেপাশের জেলার তৃণমূলের গোপন মিটিংয়ের খবর তৃণমূলের কর্মীদের কাছে পৌঁছানোর আগেই ইনি কোন অজানা দৈবিক শক্তির বলে জেনে যান। সেই মত দলীয় নেতৃত্বকে সাবধান করে দেওয়া।

ভাটপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচনের আগের দিন সাংসদ অর্জুন সিং মহাশয়ের উপর যে দুস্কৃতিরা হামলা চালালো। এরকম যে হতে পারে এবং সেটা তৃণমূলের কোন মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে, সে খবর নির্বাচন কমিশনের কাছে এক মাস আগেই মেল মারফত জানিয়ে দিয়েছিলেন। সে কপিও সযত্নে রেখে দিয়েছে বারাকপুরের বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রাথমিক ভাবে ব্যারাকপুর লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী মাননীয় নরেন্দ্র মোদীর সভা করার কথা ছিল না। উচ্চ নেতৃত্বকে দিয়ে সভার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে সভা করার জন্য রাজী করানো এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও জেলা শাসক দফতরের সাথে আলোচনা করে নিয়ম মতো প্রধানমন্ত্রীর সভার আয়োজন ও সুসম্পন্ন করার পিছনে মূল কারিগর ছিলেন রঞ্জিত।

৩. তন্ময় কান্তি পাল, ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা মিডিয়া সেল কো কনভেনর: ভোট ম্যানেজমেন্ট মাষ্টার প্রশান্ত কিশোরের তৈরি Indian Political Action (I-Pac) টিমের সদস্য ফেসবুকে কড়া হিন্দুত্ববাদী মুখ ও জগতগুরু শঙ্করাচার্য ও বিজেপির ভাবধারা প্রচারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যারাকপুর লোকসভা অঞ্চলের সবথেকে পরিচিত মুখ। সোশ্যাল মিডিয়াতে তৃণমূল-বাম-কংগ্রেসী সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তর্ক-বিতর্কে অংশ নিয়ে যুক্তি তর্কে নাস্তানাবুদ করার মুখ হিসাবে রাজ্য জুড়ে ফেসবুকে সুপরিচিত। দলের প্রচারের কাজকে এক ভিন্ন মাত্রায় পৌছে দেওয়ার পিছনে অন্যতম কারিগর। কোথায় কখন সভা সমাবেশ হবে? স্টার প্রচারক কে কোথায় আসবেন? তার প্রশাসনিক অনুমতি আদায়ের মূল দায়িত্ব দিনরাত এক করে করে গিয়েছেন।

৪. হিরন্ময় দেবনাথ, ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার লিগাল সেল কনভেনর: সারা রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি সহ সকল বিরোধীদের অন্যতম অভিযোগ, প্রশাসনকে ব্যাবহার করে কর্মী ও নেতাদের মিথ্যাকেসে ফাঁসানো। ব্যারাকপুর লোকসভা ও ভাটপাড়া বিধানসভা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেসটিজ ফাইট। তাই এখানকার কর্মীদের উপর কোন পর্যায়ের পুলিশকে কেস দিতে হয়েছে তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অসাধারন টিম তৈরি করে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারীকদের সাথে বারবার বৈঠক করে এবং আদালত সংক্রান্ত কাজকর্ম সামলিয়ে কর্মীদের রক্ষা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে যে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল, সেটি তারই লেখা।

৫. ধীরাজ মিশ্র, জেলা সম্পাদক: এককথায় বলা যায়, নরেন্দ্র মোদীজির প্রচারের জন্য যদি থাকে নমো টিভি ও ব্যারাকপুরে ছিল ধীরাজ টিভি। ওনার ফেসবুক খুললেই সারাদিনের জেলা বিজেপির ছোট বড় সকল কার্যক্রমের খবর একনজরে হাজির।

৬. আশুতোষ চতুর্বেদী, প্রশাসনিক দায়িত্ব , ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা: প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে গিয়ে তৃণমূলের ঝড়কে লন্ডভন্ড করতে যেন সাক্ষাত ঘূর্ণিঝড় হ্যারিকেন। পুলিশ আধিকারিকদের সাথে কথা বার্তা বলে দলের কাজ হাসিল করে নেবার মাষ্টার লোক।

৭. রত্নেশ সিং ও অরিন্দম ব্যানার্জী, আইটি কনভেনর: দেশ জুড়ে বিজেপি ঝড় আছড়ে পড়ার পিছনে যে আইটি সেলের অন্যতম অবদান, সে কথা তো সবাই জানে। এই জেলাও তার ব্যাতিক্রম নয়। তৃণমূলের দুঃশাষন ও মোদী সরকারের প্রকল্পগুলি তৃণমূল যেভাবে নিজেদের স্টিকার মেরে চালাচ্ছে তা প্রতি ঘরে ঘরে পৌছে দিয়ে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক বাড়ানোর অন্যতম কারিগর।