স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : আর খেলা হবে কি না জানা নেই। আর্থিক অনটন এতটাই বেশি মোহনবাগানের অনুর্ধ্ব-১৭-র এই ফুটবলারের। একে করোনার জেরে লকডাউন। বাবার কাজ নেই। অন্যদিকে আমফানে ভেঙেছে বাড়ি। স্বপ্নওগুলোও ভেঙে যাওয়ার দোরগোড়ায়। হাল না ছেড়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কার্ত্তিক মালিক।

গ্রামীণ হাওড়ার রাজাপুর থানার নতুনভাটা এলাকার বাসিন্দা। ছোটোবেলা থেকেই চোখে স্বপ্ন ছিল ফুটবলার হওয়ার। কিন্তু,বাধা হয়ে দাঁড়ায় পারিবারিক আর্থিক অনটন। বাড়িতে অসুস্থ বাবা,মা গৃহবধূ,ছোটো বোন নবম শ্রেণীর পড়ুয়া।উচ্চমাধ্যমিক পড়াকালীনই পড়াশোনাকে জানাতে হয়েছে কার্ত্তিককে।দাসনগরের পড়চুলা কারখানায় কাজ করে কোনওরকমে সংসার চলে। তারপরও অদম্য লড়াইকে সঙ্গী করে প্রতিকূলতার মাঝেও কার্ত্তিক আজ মোহনবাগানের অনুর্ধ্ব-১৭ নিজের জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু,দীর্ঘ লকডাউনের জেরে বন্ধ ফুটবল। পরচুলারও কাজ হারাতে বসেছে এই যুব ফুটবলার। কীভাবে সে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে সে-ই চিন্তাতেই তার রাতের ঘুম উড়েছে। অন্যদিকে,আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ছোট্ট ঘড়ের চাল। ভেঙেছে টালি, তবু নিজের স্বপ্ন থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসতে নারাজ উলুবেড়িয়ার এই প্রতিভাবান ফুটবলার।

এদিকে করোনাকে সঙ্গী করেই প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ যতটা সম্ভব পালন করে আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে সবকিছু। তাহলে ক্রীড়াক্ষেত্রই পা পিছিয়ে থাকে কেন? ক্রীড়াক্ষেত্রও খুলতে শুরু করেছে। অনেক খেলায় প্র্যাকটিস শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় এবারের আইলিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান ক্লাব কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছিল আগামী সোমবার থেকে খুলে দেবে ক্লাবের দরজা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদল করল তারা।

ক্লাবের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, যেভাবে হুহু করে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে ক্লাবের সদস্য ও সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে মোহনবাগান ক্লাবের দরজা ১৫ জুন থেকে খুলছে না। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। একটা সময় অন্তর পরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাও হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলেই যে মোহনবাগান ক্লাবের দরজা খুলবে তা এদিন পরিস্কার করে দিয়েছে তারা। গত ১ জুনই অ্যাটলেটিকো দে কলকাতা বা এটিকে-র সঙ্গে মোহনবাগান ক্লাবের গাঁটছড়া সম্পূর্ণ হয়েছে। এটিকে-র মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার হাতে এখন রয়েছে মোহনবাগানের ৮০ শতাংশ শেয়ার। বাকি ২০ শতাংশ রয়েছে মোহনবাগানের। প্রসঙ্গত এবার ৪ ম্যাচ বাকি থাকতেই আইলিগ চ্যাম্পিয়ন হয় মোহনবাগান।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ