স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : তিনি নিজে একজন করোনা যোদ্ধা। করোনার হাত থেকে মানুষকে সুস্থ করতে গিয়েই কিছুদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন। কিন্তু,তিনি কখনও হার মানেননি। বরং করোনার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই করোনা চিকিৎসার স্বার্থে নিজের প্লাজমা দান করে এগিয়ে এলেন গ্রামীণ হাওড়ার বাগনান-১ ব্লকের হারোপ গ্রামের বাসিন্দা তন্ময় মন্ডল।

বছর সাতাশের তন্ময় সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত। গত ২৯ শে এপ্রিল তাঁর শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। তারপরই ৩০ এপ্রিল তাঁকে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। করোনাকে জয় করে গত ১৩ ই মে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন অতনু। তারপরই সে নিজের প্লাজমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই বিষয়ে সবিস্তারে জানতে তিনি তাঁর পরিচিত চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ করেন। তাঁদের পরামর্শ মোতাবেক গতকাল কোলকাতার ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে প্লাজমা দান করে হারোপ মনসাতলার এই যুবক।

অতনু মন্ডলের কথায়,”একটা মানুষের জন্য যদি তিন-চারজনের প্রাণ বাঁচে তার থেকে আর ভালো কিছু হতে পারে না।করোনাকে ভয় নয়,জয় করতে হবে।মাথা উঁচু করে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”তন্ময় জানায়,”প্লাজমা দান করার পর সে এখন সুস্থ আছে।”তন্ময়ের এহেন সাহসী পদক্ষেপে খুশি তাঁর পরিবার ও বন্ধুবান্ধবরা।তন্ময়ের মা রীতা মন্ডলের কথায়,”আমি প্রথমে বিষয়টি জেনেছিলাম না।তবে জানার পর আমি আমার একমাত্র ছেলের কথা ভেবে সামান্য ভয় পেয়েছিলাম।তবে এখন সত্যিই আমি আনন্দিত ও গর্বিত আমার ছেলের জন্য।”প্রসঙ্গত,করোনা থেকে যাঁরা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের শরীরে এক ধরনের অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।এমন ব্যক্তির রক্ত থেকে সংগ্রহ করা হয় প্লাজমা।চিকিৎসকদের মতে,করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সেই অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হলে,তার শরীরেও সেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে কেউ কেউ সুস্থ হয়ে উঠছেন।এরফলে করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা একটা অত্যন্ত বড়ো ভূমিকা পালন করছে।তাই তন্ময় চান তাঁর মতো সহস্র করোনা যোদ্ধা করোনাকে হার মানিয়ে নিজের প্লাজমা দিয়ে এই লড়াইয়ে সামিল হোক।তাহলেই বিশ্ব দেখবে এক নতুন দিশা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ