স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া : স্বাধীনতা দিবসে আসুক শিক্ষার স্বাধীনতা। এই অঙ্গিকার নিয়েই নিজের জন্মদিন পালন করল যুবক। শিক্ষার আলোকে অগ্রসর করাতে প্রয়োজনীয় বই খাতা তুলে দিল ওঁদের হাতে।

আজ থেকে ঠিক ২৯ বছর আগে দেশজুড়ে যখন পালিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস এমনই এক শ্রাবণের বর্ষণসিক্ত দিনে পৃথিবীর আলো দেখেছিল যুবক। সময়ের প্রবহমান স্রোতে সেদিনের শিশু আজকের যুবক। ঘটেছে মানবিক বিকাশ। সাংসারিক দায়িত্বের পাশে সামাজিক দায়িত্বও তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তাই নিজের ২৯ তম জন্মদিনে সমাজের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এলেন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর অন্যতম সদস্য দেবব্রত কর্মকার।

দেবব্রতর জন্মদিন উপলক্ষ্যে তাঁর মানসিক ও আর্থিক সহযোগিতায় ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর পক্ষ থেকে আমতা-২ ব্লকের রিম্পা শাসমল,বাগনান-১ ব্লকের সঞ্চিতা আদক,সুস্মিতা হাজরা ও উলুবেড়িয়া-২ ব্লকের মৌমিতা সানার হাতে তুলে দেওয়া তাদের প্রয়োজনীয় বই,খাতা,পেন।আজ সকাল থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি।তার মাঝেই আমাদের সদস্যরা পড়ুয়াদের দ্বারে পৌঁছে গিয়ে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষাসামগ্রী তুলে দিয়েছেন।উল্লেখ্য,লকডাউনের জেরে বইয়ের জোগান ব্যাহত হওয়ায় আজ আমরা ওদের হাতে ওদের সমস্ত বই তুলে দিতে পারিনি।আমরা বাকি বইগুলো ওদের কাছে খুব শীঘ্রই পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেবব্রতর জীবনে এই শুভদিন আসুক বারেবারে।আগামীর প্রতিটিক্ষণ হোক সুন্দর ও প্রাঞ্জল।

সম্প্রতি এভাবেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের দুঃস্থ ছাত্রদের সাহায্য করেছে এই সংস্থা। জীবনের বড় পরীক্ষার পর পড়াশোনার প্রস্তুতিও শুরু করেছে অধিকাংশ পড়ুয়া। আর পাঁচটা পড়ুয়ার মতোই সইদুল,কৃষ্ণেন্দু,দীপাংশু,আকাশ,সানারা মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে নতুন শ্রেণীতে উঠেছে। শেষ পরীক্ষায় ওদের কেউ পেয়েছে ৯০ শতাংশ নাম্বার আবার কেউ পেয়েছে ৭৫ শতাংশ নম্বর।তবে ওদের জীবনের লড়াইটা আর পাঁচটা পড়ুয়ার থেকে একটু অন্য রকমের।কারও বাবা নেই, মা সাফাইকর্মীর কাজ করে সংসার চালান, কারও বাড়িতে অর্থাভাবে জ্বলেনি বিদ্যুতের আলো, আবার কেউ নিজের পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি সংসারের হাল নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। তবুও শিক্ষার জন্য চালিয়ে যাচ্ছে অদম্য লড়াই। গ্রামীণ হাওড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের এমনই বেশ কিছু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পড়ুয়ার লড়াইয়ে সঙ্গী হয়ে এগিয়ে এসেছে আমতার উদংয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে শিক্ষায় স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির পক্ষ থেকে দুঃস্থ পড়ুয়াদের হাতে সেইসব একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক,খাতা ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও