স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : কলমে ভরসা রেখেই এবার সুন্দরবনের আম্ফান বিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এগিয়ে এলেন গ্রামীণ হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বেলে সিজবেড়িয়ার বাসিন্দা সেখ ওয়াশিম।ছাত্রজীবন থেকেই লেখাকে নিজের সঙ্গী করেছেন। লেখার প্রতি অগাধ নিষ্ঠা এবং ভালোবাসা আজ তাঁকে লেখক হিসাবে সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্তরা তাঁর থেকে প্রায়শই লেখার আব্দার করেন। বিনামূল্যেই তিনি নিজের লেখা গল্প,কবিতা , লিরিক্স দিয়ে দেন। কিন্তু,এবার আর তা বিনামূল্যে দিতে রাজি হননি ওয়াসিম। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি শর্ত রেখেছিলেন নূন্যতম ১ টাকা দিতেই হবে তাঁর লেখা পেতে হলে।মাত্র দু’দিনে অভূতপূর্ব সাড়া পড়ে ওয়াসিমের এই আহ্বানে।কলমের মধ্য দিয়ে উপার্জিত সেই অর্থ সুন্দরবনের আম্ফান বিধ্বস্ত মানুষের স্বার্থে তিনি তুলে দিলেন আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর হাতে।জানা গেছে,আগামী সপ্তাহেই বিপুল পরিমাণ মুদিখানাসামগ্রী ও শিক্ষাসামগ্রী নিয়ে আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সদস্যরা দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাগর ব্লকের প্রত্যন্ত দ্বীপে পৌঁছাবেন। পেশায় ব্যবসায়ী ওয়াসিমের কথায়,”লকডাউন আর আম্ফানের গেরোয় বিধ্বস্ত বহু মানুষ।সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মানুষের পাশে দাঁড়াতে।লকডাউনের জেরে নিজের ব্যবসাও দীর্ঘদিন প্রায় বন্ধ।তাই মানুষের পাশে দাঁড়াতে কলমের সাহায্য নিয়েছি।”

আমফানের ক্ষতি দেখতে কলকাতায় এসে গিয়েছে সাত সদস্যের কেন্দ্রীয় টিম। এই দলের রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, কৃষিমন্ত্রক, মৎস্যচাষ, ব্যয় সংক্রান্ত মন্ত্রক, জলশক্তি মন্ত্রক, শক্তিমন্ত্রক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রকের সাত অফিসার। শুক্রবার সকালে এদের একটি ভাগ সড়কে পাথরপ্রতিমা যাবে। আরেকটি দল পৌঁছবে হেলিকপ্টারে। পাথরপ্রতিমা কলেজে হবে বৈঠক। তারপর লঞ্চে ব্রজবল্লভপুর, রামগঙ্গা, ভারাতলা ঘুরে দেখবেন তাঁরা। তারপর একদল সড়কপথে, অন্যদল হেলিকপ্টারে ফিরবে কলকাতায়।

আরেকটি দল যাবে ধামাকালি, সন্দেশখালি ১ ব্লকে। হেলিকপ্টারে আরেকটি দল যাবে সরবেরিয়া হেলিপ্যাড হয়ে ধামাখালিতে। সেখানে হবে বৈঠক। তারপর সন্দেশখালি ১ ও ২ ব্লক, ন্যাজাত ১ ব্লক নৌকায় ঘুরে দেবেন তাঁরা। তারপর ফিরে আসবেন কলকাতায়। ফিরে তাঁদের রাজ্য স্বরাষ্ট্রসচিব ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লি ফিরে যাবে কেন্দ্রীয় টিম।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প