সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ঘরে বসে কাজ পাচ্ছেন না? শব্দ দিয়ে ঘরে বসে জব্দ করতে পারেন করোনাকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তালি , থালি এসব বাজিয়ে সাময়িক মনকে করোনা চিন্তা মুক্ত করার পথ দেখিয়েছিলেন। সঙ্গে করোনায় কর্মরতদের জন্য বিশেষ বার্তা দিতে বলেছিলেন শব্দ করে। সে বার্তার অপব্যবহার হয়েছে। তবে এই শব্দে কোনও অপব্যবহার করতে পারবেন না। এতো শব্দজব্দের ছকবাজি। যা ঘরে বসে এক খেলতে পারেন। করোনা নিয়ে এমনই শব্দ জব্দ বানিয়েছেন শুভজ্যোতি।

সারাদিন করোনা নিয়ে একই খবর শোনার থেকে তো ভালো উপর নীচে, সামনে পিছনে করোনা নিয়ে শব্দকে জব্দ করা। এমনটাই জানাচ্ছেন শহরের শব্দজব্দ স্পেশ্যালিস্ট শুভজ্যোতি। তিনি বলছেন, ‘এখন তিন সপ্তাহ ঘরবন্দি। তাই খেলতে পারেন শব্দছক’ । সতের’শ শব্দছক তৈরি করে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তুলেছেন শুভজ্যোতি।


হঠাৎ কেনো এই করোনাভাইরাসকে নিয়ে শব্দছক করলেন? শুভজ্যোতির কথায়, ‘ করোনা ভাইরাস নিয়ে যে শব্দছক তৈরি করেছি সেটা সম্পূর্ণভাবে সমাজকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছি এই ভাইরাস সম্পর্কে।আর এই শব্দছকের প্রথমেই বলেছি ‘করোনা , আর না ‘। এরকমই করোনা নিয়ে নানা সচেতনতা মূলক বার্তা দিয়েছি।’

১৯৯৭ সালে নবম শ্রেণিতে শুভজ্যোতির তৈরি প্রথম শব্দছক খবরের কাগজে ছেপে বের হয়। সেই শব্দছকের বিষয় ছিল ডাইনোসর। সেই শুরু। তারপর থেকে কলকাতা, রথযাত্রা, দুর্গাপুজো, ভ্রমণ থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিত রায় এরকম প্রায় ৫০টির বেশি বিষয়ভিত্তিক শব্দছকও বানিয়েছেন শুভজ্যোতি।

তিনি বলেন, “শব্দ নিয়ে খেলার পাগলামিটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। কতবার স্কুলে বাড়িতে বকুনি, মার খেয়েছি। স্যার পড়াচ্ছেন, এদিকে আমি বাড়িতে খবরের কাগজ থেকে কেটে নিয়ে আসা শব্দছক ভাঙছি।” বড় হয়েও শব্দ নিয়ে খেলার পাগলামিটা যায়নি শুভজ্যোতির৷ সেটাই সন্তোষপুরের এই বাসিন্দাকে অন্য ধরনের জীবিকা বেছে নিতে সাহায্য করেছে। বিশেষ স্বীকৃতি মিলেছে। লক্ষ্য এখন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খাতায় নাম তোলা।