প্রতি বছরের মত এবারেও ঘোষণা করা হয়েছে নোবেল প্রাপকদের নাম। রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল প্রাপকদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরেও পদার্থবিদ্যাতে নোবেল পেয়েছিলেন মহিলা বিজ্ঞানী। তবে এই বছরে একটি বিষয় দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। এবছর বিজ্ঞানে নোবেল পাননি কোন মহিলা বিজ্ঞানী। যদিও বাকি রয়েছে অর্থনীতি তে নোবেল প্রাপকদের নাম।

এ্যাসোসিয়েশন ফর ওমেন ইন সাইন্সের চিফ রিসার্চার ড. হেথার মেতক্লাফের মতে এটি ভীষণই হতাশাজনক। জানিয়েছেন এবারের নোবেল পুরস্কার প্রাপকদের তালিকার মধ্যে তিনি স্বচ্ছতা দেখতে পাননি। যদিও এখনও পর্যন্ত অর্থনীতিতে নোবেল প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয় নি। কিন্তু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কোন মহিলা বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা না করাতে এবারেও যে নোবেল কমিটিকে ঘিরে একটি বিতর্ক উঠতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও উঠেছে ঝড়। টুইটারে একজন ‘পদার্থবিদ ভ্যারা রুবিনের’ নোবেল না পাওয়ার বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে ১১৮ বছরের মধ্যে মাত্র ২০ জন মহিলা বিজ্ঞানী পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন। যা দেখে অনেকেই লিঙ্গ বৈষম্যর দিকটিও ইঙ্গিত করেছেন।

মেতক্লাফ জানিয়েছেন, মহিলা গবেষক এবং গবেষণা সহায়কদের বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখাতে অবদান রাখার জন্য সম্মান জানানো উচিত। তবে তা হয় না। বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখাতে গবেষণা করার জন্য বা গবেষণাতে সহায়তা করার জন্য যে পরিশ্রম করেন সেই দিক থেকে তারাও সমান ভাবে সম্মানের যোগ্য। অর্থাৎ তিনি যে লিঙ্গ বৈষম্যের দিকটি ইঙ্গিত করছেন তা তাঁর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার। তিনি তার গবেষণাপত্রতে উল্লেখ করেছেন মহিলাদের থেকে পুরুষরা ১৮ বার বেশী সম্মান পেয়েছেন। আরও জানিয়েছেন, বিজ্ঞানে অবদান রাখার জন্য নোবেল দেওয়ার ক্ষেত্রে সকল বিজ্ঞানীর কাজের দিকটাই নজর রাখা উচিত। সেখানে কোনরূপ লিঙ্গ বৈষম্য করা উচিত নয়। মেতক্লাফের গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে নোবেল কমিটির নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষপাতিত্বের কথা।

ফ্রান্সেস আর্নল্ড ছিলেন পঞ্চম মহিলা যিনি রসায়নে দুইজন পুরুষ বিজ্ঞানীর সঙ্গে নোবেল পেয়েছিলেন। এনজাইমের বিবর্তন নিয়ে কাজ করার ফলে তিনি এই সম্মান পেয়েছিলেন।কানাডার দন্না স্ত্রিকলান্দ হলেন তৃতীয় মহিলা এবং নোবেল ইতিহাসের ৫৫ বছরের মধ্যে প্রথমজন যিনি পদার্থবিদ্যায় দুজন পুরুষ বিজ্ঞানীর সঙ্গে নোবেল প্রাইজ ভাগ করে নিয়েছিলেন।

১৯০৩ সালে মারি কুরি প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী যিনি পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছিলেন। তারপরে মারিয়া গয়েপপেরত মায়ের ছিলেন দ্বিতীয়জন যিনি পরমানুর নিউক্লিয়ার সেলের গঠন নিয়ে কাজ করার জন্য নোবেল পেয়েছিলেন। ৫৭ বছর বয়সে এই কাজের জন্য পেয়েছিলেন নোবেল।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও