তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ২০১৮ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেলেও এখনো পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এইবিষয়ে প্রশাসন শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র কড়া নজরদারি রেখেছে। শনিবার বাঁকুড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস।

এদিন তিনি আরও বলেন, গত মাস আগে পৌরপ্রধানকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকা ঘুরে দেখেছিলাম। কিছু ‘গণ শৌচাগার’ তৈরীর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পৌরসভা সেই কাজ অনেকটাই করেছে। ওই শৌচাগার ব্যবহার নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী করা হবে। এর আগে জেলায় ৫ লক্ষ ২০ হাজার শৌচালয় তৈরী হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকারের তরফে শুধুমাত্র গ্রামীণ এলাকার জন্য ৮৩ হাজার শৌচাগার তৈরীর অনুমোদন এসেছে। এই কাজ শেষ হলে জেলায় সিংহভাগ বাড়িতেই শৌচাগার তৈরী হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

এর আগে জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এসকে সাইকেল নিয়ে পৌর এলাকা সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে দেখেছেন মানুষ। এদিন একেবারে অন্যভাবে দেখা গেল তাঁকে। জেলাপ্রশাসন, পুলিশ, পৌরপ্রতিনিধিদের সাথে নিজে বুলেট চালিয়ে বাঁকুড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখলেন তিনি। কথা বললেন স্থানীয় মানুষের সঙ্গে। স্বয়ং জেলাশাসককে হাতের কাছে পেয়ে খুশি শহরবাসীও। তারা তাদের অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা তাঁকে জানালেন।

এদিন লখ্যাতড়া শ্মশান রোড এলাকার মানুষ অভিযোগ করেন, তাদের এলাকায় গণ শৌচাগার তৈরী হলেও পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা নেই। এলাকার বাসিন্দা বন্দনা মিশ্র বলেন, শৌচাগার তৈরী হলেও জলের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই খোলা মাঠ, নিকাশী নালা, পুকুর পাড়ে শৌচকর্ম সারতে হয়। জলের ব্যবস্থা হলে তাদের আর শৌচকর্ম সারতে ওই সব খোলা জায়গায় যেতে হবেনা বলে তিনি জানান।

বাঁকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত সাধারণ মানুষের এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও জলের কল ভেঙ্গে গেছে বা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এই কারণে চৌবাচ্চা তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শৌচালয় ব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।