সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : চার বাড়ি কাজ করে আসছে। ওরে বাবা , এখন কাজ করতে দেওয়াই ভালো। এটা একরকম আর অনেকেই এমন আছেন যারা পরিচারিকাদের মাসের মাইনেটুকুও এই কঠিন সময়ে কেটে নিচ্ছেন। অনেকে কাজ ছাড়িয়ে দিচ্ছেন। লকডাউন ফোর চলে এসেছে। সরকার বিরাট সাহসী , কিন্তু বাস্তবে গৃহস্থ এত সাহস হয়ে ওঠেনি যে করোনা বগলদাবাই করে সব স্বাভাবিক মেনে নিচ্ছেন। সেখানেই সমস্যায় পড়ছেন পরিচারিকারা। না আগে যেতে পারছেন না পিছে। করোনার কারণে পরিচারিকারদের অবস্থা অনেকাংশে খারাপ হয়েছে।

কে সাহায্য করবেন? কে ভাববেন ওঁদের কথা? বাগনান থানার হিজলক গ্রামের এক গৃহবধু চৈতালী মাজি এগিয়ে এসেছেন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিচারিকাদের দিকে। তা এক-দুজন নয়। ২৭ জন পরিচারিকাকে সাহায্য করেছেন তিনি। এই দুঃসময়ে নিজের সংসার চালাতে মানুষের চিন্তায় সব গুবলেট হয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে নিজের সংসার খরচ বাঁচিয়ে এলাকার পরিচারিকাদের হাতে ২৫০ টাকা করে তুলে দিয়েছেন। শুধু এতেই থামেননি, তিনি জানেন যারা কাজ করতে ডাকছেন তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই পরিচারিকাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা দেখে নিচ্ছেন। তাঁর কিছু পরিচারিকার এমনও হয়েছে যে মাস্ক বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার না থাকায় কাজ বাতিল হয়েছে। কিন্তু তবু তাঁরা নিজেরা তাঁকে দেননি। চৈতালি দেবী ভেবেছেন সেই কথা। কাজটাও করেছেন। ওই পরিচারিকাদের হাতে তুলে দিয়েছেন একটি করে সাবান ও মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

চৈতালি মাজি বলেন , ‘পরিচারিকাদের সচেতন করতে পারলেই অনেক মানুষ এবং অনেক পরিবারকে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচানো যাবে কারন এরা অনেক বাড়িতে যাওয়া আসা করেন। তাই এঁদের সচেতন এবং পরিস্কার থাকা প্রত্যেক বাড়ির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ একইসঙ্গে গৃহস্থের জন্য তাঁর বিশেষ বার্তা, ‘অনেক পরিচারিকা এমন আছে সব পেয়ে ,সব জেনেও কিছু করেন না। তাঁদেরকে সাবান দিয়ে কেন বারবার হাত ধুতে হবে এবং কেন মাস্ক পরতে হবে সেটাও ওদের বোঝাবেন। সেটা আমি এই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো দিয়েও ওঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি।’

এই উদ্যোগে খুশি পরিচারিকারাও, তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা কাজের মেয়ে বলে কেউ আলাদা করে ভাবেনি আমাদের কথা, উনি আমাদেরকে নিয়ে এমন ভেবেছেন তাতেই আমরা খুশি। আমরা নিজে থেকেই এখন আরও সচেতন হয়েছি। আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV