সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: নেতা নেত্রীরা চাল ডাল দিচ্ছেন। অনেক স্বেচ্ছা সেবীও এইই কাজ করছেন। স্থানীয়রাও নেমেছেন এই কাজে। ইনি দিচ্ছেন কেমো। হ্যাঁ, এটাই বাস্তব। মুমুর্ষু ক্যান্সার রোগীদের পাশে এভাবেই দাঁড়িয়েছেন নন্দিতা চৌধুরী। মনে রেখে বাবার স্বপ্ন। এই লকডাউনের কঠিন সময়ে ক্যান্সার আক্রান্তদের পাশে এইভাবেই দাঁড়াচ্ছে ‘ambika banerjee cancer foundation’।

এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রত্যেকেই যে ক্যান্সার রোগীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সেটা পুরোপুরিভাবে নিজেরাও ঘরবন্দী থেকেই। ক্যন্সার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর ভাবনা মূলত নন্দিতা দেবী, তাঁর দিদি ও মায়ের। তিনি জানিয়েছেন , ‘আমার বাবা অম্বিকা ব্যানার্জি, নতুন করে ওনার পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ওঁর ক্যান্সার ছিল। আমার মা’কে কেড়েছে কর্কট রোগই।

কিন্তু বাবার বহু কাজের ইচ্ছা ছিল যেগুলো করা হয়ে ওঠেনি। ইচ্ছাগুলো আমি , আমার দিদি ও মা মিলে কিছুটা পূরণ করার চেষ্টা করি। অন্যতম ক্যান্সার রোগীদের সাহায্য। মা চলে যাওয়ার পর সেই কাজে আমি আর আমার দিদি আরও দৃঢ়ভাবে ব্রতি হয়েছি। সেই ভাবনা থেকেই লকডাউনের সময়ে ক্যন্সারে মুমুর্ষুদের পাশে দাঁড়ানো।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘আমরা কেউ বাড়ি থেকে বেরোচ্ছি না, কিন্তু যারা এমন সমস্যায় পড়ছেন সেই খবর আমাদের কাছে আসছে। যাদের কেমোথেরাপির ইমিডিয়েট প্রয়োজন তাঁদের আমাদের চেনা জানা অনেক হাসপাতাল রয়েছে যারা কেমোথেরাপির কাজ এই লকডাউনেও বন্ধ রাখেনি। টেস্টের প্রয়োজন সেটাও অনেকেই করছে। আমরা তাদেরকে টেস্ট চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’

নন্দিতা দেবী জানিয়েছেন , ‘বাবা যেখানে প্রতিদিন মানুষের সঙ্গে দেখা করতেন এখন সেখানেই আসেন ক্যান্সার পেশেন্টরা। কিন্তু বাধ সেধেছে লক ডাউন। ভিডিও কল করে করে অনুরোধ করছেন অনেকেই। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’ এর মধ্যেই উপকার পেয়েছেন চার ক্যন্সার আক্রান্ত।

তাপসী রায়, স্বপন পাল, দীপা কর্মকার, বিভাস মাইতিদের মতো ক্যন্সার রোগী যেমন সাহায্য পেয়েছেন তেমন অনেক ক্যন্সার আক্রান্তের আবার দিন আনা দিন খাইয়ের সংসার। তাঁদের খরচ নিজেই বহন করছেন অম্বিকা কন্যা। করোনার বাধা আটকাতে পারেনি নন্দিতাদেবীকে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ যারা ওষুধ কিনতে পারছেন না। সেই ওষুধের প্রেসক্রিপশন ও আসছে হোয়াটসঅ্যাপে ওষুধ কিনে সাধ্যমত সাহায্য করে চলেছেন তিনি। সবাই যখন চাল ডাল বিলোচ্ছেন, উনি বেলাচ্ছেন কেমো।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও