সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ধোনি বড় ব্যাটসম্যান, ঋদ্ধিমান সুপারম্যান। গিলক্রিস্ট , বাউচার, সাঙ্গাক্কারা এঁরাও কিংবদন্তী উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। কিন্তু বডি লাইন সিরিজের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে কেউ মনে রাখেনি। লারউড , ব্র্যাডম্যানের লড়াইয়ে তিনি চাপা পড়ে গিয়েছেন। ব্যাট হাতে একশো’র বেশি সেঞ্চুরি, গ্লভ হাতে ক্রিকেট জীবনে শিকার হাজারের বেশি ব্যাটসম্যান। তবুও কোনওদিন মেলেনি কিংবদন্তীর তকমা। তিনি লেস অ্যামিস।

১৯০৫ সালে জন্ম গ্রহণ করেন কেন্ট ও ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লেস অ‍্যামিস। টেস্ট অভিষেক ১৯২৯ সালে। সেই সময় টেস্টে ৪০ গড়ে ৮টি শতরান সহ প্রায় আড়াই হাজার রান করেন। নেন ৭৪টি ক্যাচ , করেন২৩টি স্ট্যাম্পিং।

ছাব্বিশ বছরের লম্বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে করেছেন ৩৭হাজার রান, রয়েছে ১০২টি শতরান। সঙ্গে ছিল ৭০৩ টি ক্যাচ ও ৪১৮ টি স্ট্যাম্প। বডিলাইন সিরিজে লারউড-ভোসদের বলে উইকেটরক্ষক ছিলেন তিনিই। অ্যামিস একমাত্র কিপার ব্যাটসম্যান যিনি ব্যাট হাতে একশোটি শতরান করেছেন।

১৯৩৫ সালে সর্বশেষ ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে লাঞ্চ সেশনের আগেই টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। পরবর্তী সত্তর বছর অক্ষত ছিল অ্যামিসের রেকর্ড। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইয়ান বেল এই রেকর্ড ভাঙেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে অষ্টম উইকেট জুটিতে গাবি অ্যালেনের সাথে ২৪৬ রানের জুটি গড়েন। ১৯৩১ সালের সেই রেকর্ড পরবর্তী ৮০ বছর অক্ষত ছিল।

২০১০ সালে এই রেকর্ড ভাঙেন জোনাথন ট্রট – স্টুয়ার্ট ব্রড। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁরা ৩৩২ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তিনি রয়্যাল এয়ার ফোর্সে স্কোয়াড্রন লিডার ছিলেন। যুদ্ধের পরে তিনি পুণরায় কেন্টের পক্ষে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন।

বিশ্বে মাত্র দুজন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান রয়েছেন যারা এক মরসুমে একহাজার বা তার বেশি রান করেন। করেন একশোর বেশি ক্যাচ এবং স্ট্যাম্পিং। তিনি তিনবার এই কাণ্ড করে দেখান। তাঁর সঙ্গে এক আসনে রয়েছেন জন মারে। তিনি অবশ্য মাত্র একবারই এই কৃতিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।