স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক বড় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীর বন্দনায় এবার মেতে উঠতে চলেছেন হাওড়া জেলার জয়পুরের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম খালনার মানুষ। হাওড়া জেলার বাগনান স্টেশন থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরে এই ছোট্ট গ্রাম খালনা।

প্রায় কুড়ি হাজারেরও বেশি পরিবারের বাস এখানে। এদের কাছে বড় উৎসব মা লক্ষ্মীর আরাধনা। বারোয়ারি ও ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েকশো পুজো হয় এখানে। গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতেই মা লক্ষ্মীর আরাধনা হয়। কারণ এই গ্রাম শস্য-শ্যামলা।

এই গ্রামের মানুষেরা গ্রামে উৎপাদিত ফসল শহরে বিক্রি করেন জীবিকা চালান৷ তাই মা লক্ষ্মী তাঁদের কাছে আরাধ্যা৷ তাঁদের বিশ্বাস যে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন বলেই এদের সচ্ছলভাবে পরিবার চলে। জানা যায়, ১৯৭৮ সালের বন্যায় এই গ্রামের প্রচুর ক্ষতি হয়। কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা করে গোটা গ্রাম ক্রমে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে।

এদের কাছে বড় উৎসব দুর্গাপূজা নয়, মা লক্ষ্মীর আরাধনা। কথায় আছে প্রায় কয়েকশ বছর পূর্বে মা লক্ষ্মী দেবী এখানে প্রথম পূজিতা হন। তখন থেকেই বংশপরম্পরায় প্রত্যেক বাড়িতেই লক্ষ্মীর পূজা হয়ে আসছে। সার্বজনীন ও বারোয়ারি পূজাগুলিও এখানে বেশ জাঁকজমকভাবে হয়ে থাকে।

কোনও কোনও পুজোর বাজেট কয়েক লক্ষ টাকার। পুজোকে ঘিরে গ্রামে মেলা বসে। প্রত্যেক বছরই যারা গ্রামের বাইরে ব্যবসা সূত্রে থাকেন তারাই লক্ষ্মী পূজার সময় গ্রামে বাড়ি ফিরে আসেন। পুজোর তিনটি দিন গ্রাম মেতে ওঠে এক অনাবিল আনন্দ উৎসবে। শুধু হাওড়া জেলা নয় আশেপাশের বিভিন্ন জেলাগুলি থেকেও প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে খালনার লক্ষ্মীপুজোয়।