সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তাদের অনেকেরই রেশন কার্ড নেই তাই সরকারের থেকে নূন্যতম সুবিধে কিছু পাবার আশা নেই । সমাজের শিক্ষিত মানুষজন তাদের অবহেলা অবজ্ঞার নজরে দেখেন। প্রতিদিন ট্রেনে ভিক্ষে না করলে খেতে পাবেন না অনেকেই। গাড়ি না চলায় আরও সমস্যায় হিজড়েরা। এদিকে রুপান্তরকামীদের অনেককেই এখনও বেছে নিতে যৌনকর্ম। না করলে ঘরে চাল আসবে না। তাই ওঁদের নিজেই পথে নামলেন রুপান্তরকামী সুমি দাস।

তিনি মৈত্রীসংযোগ সোসাইটি, কোচবিহারের সাহায্য নিয়ে হিজড়ে ও রুপান্তরকামী যৌনকর্মীদের ভাতের জোগাড় করছেন সুমি নিজে। মিলছে সাহায্যও। কীভাবে? পুরোটাই অনলাইন ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে। সুমি জানিয়েছেন, ‘লকডাউন সত্যিই দরকার ছিল। এই মারণ ভাইরাসকে নিরাশ করতে এছাড়া কোনো উপায় সত্যি ছিল না। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রয়েছি । কিন্তু পেট এত কিছু মানে না, পেট এত কিছু বোঝেও না । মৈত্রীসংযোগ সোসাইটি, কোচবিহারের উদ্যোগে কিছু কম্মুনিটির মধ্যে সাহায্য করছি আমরা। অনলাইনে আবেদন জানিয়েছলাম । এখনও চলছে সেই কাজ। কিছু মানুষের সাহায্য মিলছে। তাতেই আমার কমিউনিটির বন্ধুরা বেচে আছে। না হলে না খেয়ে মরতে হত’

তিনি জানাচ্ছেন , ‘ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের অনেকেরই পেশা নাচ ,গান করা তারা বিহারে বিয়ে বাড়িতে নাচ করে এবং লোকালীও তারা নানা প্রোগ্রাম যেমন গ্রামের মেলাতে লটারির দোকানে নাচ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন সব বন্ধ। কীভাবে চলবে ওঁদের জীবন। আমাদের যতটা সাধ্য আপাতত ততটা করছি’ আর্জি, ‘আরও বাকি যারা রয়েছেন, তাদের জন্য কিছুটা হলেও সাহায্য করুন তারা যাদের আগামীকাল কি খাবো সেটা এই মুহূর্তে ভাবতে হচ্ছে।’

কিছু অভিযোগও রয়েছে তাঁর। সুমি বলছেন , ‘মন্ত্রী বলেছেন রামায়ন দেখানো পাবলিক ডিমান্ড । তবে বাকি শ্রমিকশ্রেণীর মানুষের বেঁচে থাকবার অধিকার এর ডিমান্ডটাও প্লিজ আপনারা ভাবুন আমার রেশন কার্ড নেই। আমাকে যখন বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে হয় আমি কিছু নিয়ে বেরোতে পারিনি । আমার মতো আমার কমিউনিটির বহু সাথীর ব্যাঙ্কের বই নেই, কারও ভোটের কার্ড নেই। যদি বলেন কেন করেনি। সেই প্রশ্ন অবান্তর। যে মানুষদের সমাজ মানুষ বলেই ভাবে না যাদের বেঁচে থাকাটাই সংকট তাদের এই প্রশ্নগুলো করা আমার কাছে অবান্তর।’

প্রসঙ্গত, মৈত্রীসংযোগ সোসাইটি প্রান্তিক,ট্রান্স মানুষদের আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর করবার জন্য হাতের কাজ শেখায় । অনেক দিন ধরে কর্মীদের শীতল পাটির কাজ শেখানো হচ্ছে । তারপর সেটা সাপ্তাহিক ঘুঘুমারী অঞ্চলের হাটে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে লকডাউন এর জন্য সেই সাপ্তাহিক হাট বন্ধ অনির্দিষ্ট কালের জন্য । তাদের অনেকের রেশন কার্ড নেই তাই সরকারি সুবিধে পাবার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত। এর জেরেই সমস্যায় পড়েছেন তারা। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই সাহায্যের জন্য হাত চাইছে এই সংস্থা।