সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : যে হাতে ওঠে লাঠি, সেই কণ্ঠেই ফোটে গান। কোনও সমস্যা হলেই সবার আগে দোষ পড়ে ওঁদের উপর। ‘পুলিশ ব্যর্থ’। কতরকম ব্যাঙ্গাত্মক স্লোগানও রয়েছে যা আজও খুবই পরিচিত পুলিশের বিরুদ্ধে। কিন্তু ওঁরাই যদি পুজোর থিম সং তৈরি করেন। হ্যাঁ, এবার কোনও নামীদামী শিল্পী নয়, পুলিশ তৈরি করবে পুজোর থিম সং। সৌজন্যে কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন পশ্চিম অধিবাসিবৃন্দ।

ক্লাবের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ‘পুজোর গানে পুলিশকে পাওয়া আমাদের সম্মান।’ করোনার কঠিন সময়, অনেকে পুলিশও আক্রান্ত। ঘটনা হল লকডাউন সামলাতে অবাধ্য জনতাকে অনেকক্ষেত্রেই পুলিশকে লাঠি মেরে সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে হয়েছে। সেই শক্ত লাঠি ধরা হাতে উঠে আসবে মাইক। পুলিশ গান গাইবে দুর্গা পুজোর জন্য। কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন পশ্চিম অধিবাসী বৃন্দ এবারের পুজোর থিম সং করবেন সেই পুলিশ কর্মীরাই। গানের কর্মকাণ্ড মিটিয়ে ক্লাবের সদস্যরা স্থানীয় বাগুইহাটি থানার পুলিশ কর্মীদের হাতে তুলে দিলেন মাস্ক , স্যানিটাইজার, গ্লভস সহ অ্যানার্জি ড্রিংকস।

এদিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় পুলিশদের সংবর্ধনা জানিয়ে। তারপর কৃতজ্ঞতা জানানো হয় তাঁদের জন্য। দেওয়া হয় শঙ্খধ্বনি। তারপরে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ক্লাবের সদস্যরা জানাচ্ছেন , ‘করোনার এই সময়ে আমরা পুলিশকে সম্পূর্ণ অন্য রূপে দেখছি। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো পুলিশকে কঠিন হতে হয়েছে অবাধ্যদের বাধ্য করতে কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা জনমুখী। মানুষ খেতে পাচ্ছে না পুলিশ খাবার দিচ্ছে। রক্তের দরকার পুলিশ দিচ্ছে। মানুষ বাড়িতে বসে বসে বিরক্ত হয়ে জাচ্ছে পুলিশ গিয়ে গান শুনিয়ে এন্টারটেন করছে। রাস্তায় রাস্তায় নানাধরণের ছবি আঁকছে করোনা সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। বাজারের লাইনে যার মুখে মাস্ক নেই তাঁকে মাস দিচ্ছে। হাতে দিচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তাতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিন্দুকরা ব্যস্ত সমালোচনায়। আমরা সম্মানটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর ওনাদের বানানো গান আমাদের মণ্ডপে বাজবে এতে আমরাই সম্মানিতবোধ করছি।’

প্রসঙ্গত রাজ্যে এবার শুরু হবে লকডাউন ৪.০। সেখানে পুলিশের ভূমিকাই আসল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেড জোনকে তিন ভাগে ভাগ করবে পুলিশ। রেড জোন ‘এ’-তে কড়া ভাবে বলবৎ থাকবে লকডাউন। রেড জোন ‘বি’-তে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের নিয়ম মেনে দোকান খোলার অনুমতি মিলবে। তবে নিয়ম না মানলে আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। রেড জোন ‘সি’ হল কনটেনমেন্ট জোনের বাইরের রেড জোন। সেখানে কিছু কিছু খোলা থাকবে। এই জোন ভাগ করা,কাকে ছাড় কাকে নয় সব কিছুর দায়িত্বই পুলিশের।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ