স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হতাসজনক ফলাফল দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বললেন তা নিয়ে উৎসাহের অন্ত ছিল না৷ শেষ পর্যন্ত মমতা যা বললেন, তা হল, সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছে বিজেপি৷

দিল্লিতে মমতার ঘোষণা, আঞ্চলিক দলগুলি একসঙ্গে কাজ করবে৷ যে যেখানে শক্তিশালী, সেইখানেই লড়াই করবে৷ দেশের একটা ‘পজিটিভ’ সরকার আসুক৷ ততক্ষণে বিকেল গড়িয়েছে৷ টিভির পর্দায় জ্বলজ্বল করছে পরিসংখ্যান৷ রাজস্থান, ছত্তিশগড়ে ক্ষমতা হারিয়েছে বিজেপি৷ ক্ষমতার কংগ্রেস৷ আবার মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা থেকে মাত্র তিনটি আসন দূরে কংগ্রেস৷

মমতার বক্তব্য, ‘‘সরকার আসে, সরকার যায়৷ কিন্তু এই সরকারের ঔদ্ধত্যের পরাজয় এটি৷ মানুষ ভালো চোখে দেখেনি৷ দেশের নীতির সংকট, অর্থনৈতিক সংকট, সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছে বিজেপি৷ কৃষক, চাকুরে, বেকার, পুরুষ-মহিলা সকলেই বিজেপিকে তাড়িয়েছে৷’’

পড়ুন: মোদীর ভরাডুবির খবর ঘরে ঘরে পৌঁছে দিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

সোমবার রাতেই রিজার্ভ ব্যাংকের গর্ভনর উর্জিত প্যাটেল পদত্যাগ করেছেন৷ তার জায়গায় এসেছেন শক্তিকান্ত দাস৷ শক্তিকান্ত নোটবন্দীর সময় দেশের অর্থসচিব ছিলেন৷ সেদিক থেকে দেখতে গেল, নোটবন্দীর কারিগরকেই আবার আরবিআই-এর মাথায় আনলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷

এদিন মমতা আরবিআই-এর গর্ভনরের পদত্যাগের বিষয়টিও সমালোচনা করেছেন৷ সঙ্গে বলেছেন, হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করেছে বিজেপি৷ কর্মচারি থেকে চাকুরিজীবী, সাংবাদিক – সকলকেই হুমকি দিয়েছে বিজেপি৷ তবে এই দিন বেশিদিন চলবে না৷

মমতা বলেন, দেশের উত্তরপূর্বে কংগ্রেস হেরে গিয়েছে ঠিকই, তবে ওই রাজ্যগুলি বেশিরভাগ শাসক দলের সঙ্গেই থাকতে চায়৷ দেশের দক্ষিণ দিকে বিজেপি ঢুকতে পারে না৷ বিহারে বিজেপি জোট করে রয়েছে৷ গোয়ায় যেকোনও মুহূর্তে সরকার পড়তে পারে৷ সারা বিজেপি হারবে৷ যে যেখানে শক্তিশালী, সে সেখানে লড়াই করুক৷ তবে মমতা যেভাবে শেষ করলেন, সেটিই মঙ্গলবার বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর হয়ে থাকবে – ‘‘বিজেপির শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে৷’’